সর্বশেষ
Loading breaking news...

চট্টগ্রামে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করে ভিডিও প্রচারের দায়ে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামালকে নোটিশ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি জানিয়েছে যে প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সকল প্রার্থীকে অবশ্যই নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্য

অভিযোগের মূলে রয়েছে একটি ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিও যেখানে সরওয়ার জামাল নিজামকে প্রকাশ্যে ভোট চাইতে দেখা গেছে। নোটিশে বলা হয়েছে যে ওই ভিডিওতে তিনি ভোটারদের কাছে "ধানের শীষ" প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছিলেন যা আইনত নিষিদ্ধ। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রচারণার জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে এ ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুসন্ধান কমিটি উক্ত ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করে তা প্রমাণ হিসেবে তাদের কার্যালয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করেছে।

কমিটির কড়া হুঁশিয়ারি

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম-১৩ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র সিভিল জজ শাহরিয়ার শামস এই নোটিশ স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়েছে যে প্রার্থীর এই কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট পরিপন্থী। আগামী ১৯ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে প্রার্থীকে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে অবস্থিত অস্থায়ী কার্যালয়ে এই লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইনি ব্যবস্থার সংকেত

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি নেতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করবে যা প্রার্থিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো ধরণের অবৈধ প্রচারণা বন্ধে নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপটি অন্য প্রার্থীদের জন্যও একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় পুলিশের বক্তব্য

এই বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানিয়েছেন যে তিনি নোটিশের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে নোটিশের কোনো দাপ্তরিক কপি এখনো তার হাতে এসে পৌঁছায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

আরও পড়ুন