সর্বশেষ
Loading breaking news...

একটি চায়ের দোকানের লোভে খুন হন বিএনপি নেতা, নেপথ্যে জামাইয়ের চক্রান্ত

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গন স্তব্ধ এক অবিশ্বাস্য হত্যাকাণ্ডের তথ্যে। বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনের হত্যাকাণ্ডের জট খুলতেই বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠা এক চক্রান্তের গল্প। কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, বরং নিজের মেয়ের জামাইয়ের নির্দেশেই প্রাণ দিতে হয়েছে তাকে। আর এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞে যে শুটার অংশ নিয়েছিল, তার পারিশ্রমিক হিসেবে মেলেনি কোনো বিপুল অর্থকড়ি, বরং তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল মাত্র একটি চায়ের দোকান করে দেওয়ার।জামাইয়ের ভয়ংকর ছক ও হত্যা পরিকল্পনাজেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও আদালতের জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের মেয়ের জামাই বাসেত আলী পরশ। শ্বশুরের প্রাণনাশের জন্য সে অমি ও প্রিন্স নামের দুই মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে। তদন্তে উঠে এসেছে, জামাইয়ের সুপরিকল্পিত ছক ও তার সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহার করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে, গ্রেপ্তারকৃত শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক (৩০) নিজে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।চায়ের দোকানের স্বপ্ন ও রক্তের দাগহত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ শুনে বিস্মিত তদন্তকারীরাও। শুটার মিশুক আদালতে জানায়, তাকে ভাড়া করেছিল অমি ও প্রিন্স। তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এই ‘মিশন’ সফল করতে পারলে তাকে একটি চায়ের দোকান করে দেওয়া হবে। সামান্য এই প্রলোভনেই সে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করতে রাজি হয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুরে নিজ বাসভবনের কাছেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।প্রযুক্তির জালে আটকা শুটারযশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. আহসান হাবীব জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্তে নামে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে প্রথমে শুটার মিশুককে শনাক্ত করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে গত বুধবার সন্ধ্যায় শহরের বেজপাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সময় পরিহিত পোশাকও উদ্ধার করা হয়েছে।বিচারের মুখোমুখি ও চলমান অভিযানজবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক আছাদুল ইসলাম অভিযুক্ত শুটারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পলাতক অমি ও প্রিন্সকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিছক একটি চায়ের দোকানের লোভে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের এক চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন