সর্বশেষ
Loading breaking news...

পিরোজপুরের নাজিরপুরে বহিষ্কৃত ১০ নেতাকে পুনরায় দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
পিরোজপুরের নাজিরপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে বর্তমানে স্বস্তির হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত থাকা ১০ জন নেতার বহিষ্কারাদেশ শেষপর্যন্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। ইতিপূর্বে তাঁদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল যা স্থানীয় রাজনীতিতে এক ধরণের শূন্যতা তৈরি করেছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

আবেদনের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নাজিরপুর সদর, কলারদোয়ানিয়া এবং শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ছিল। তবে বহিষ্কৃত হওয়া এই ১০ জন নেতা শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। তাঁরা পুনরায় দলে ফেরার জন্য কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে আন্তরিকভাবে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

হাইকমান্ডের ইতিবাচক সাড়া

দলের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁদের জমা দেওয়া আবেদনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাঁদের ওপর থেকে সকল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। মূলত আগামী দিনের আন্দোলন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে ঐক্য সুসংহত করতেই এই নমনীয় অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নাজিরপুরে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে অনেকে আশা করছেন। সাধারণ নেতাকর্মীরাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নতুন করে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত

নাজিরপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসান খান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে নেতাদের আন্তরিক আবেদনের প্রেক্ষিতেই তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকে নাজিরপুর সদর ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় আনন্দ মিছিল লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ কর্মীরা মনে করছেন যে এই পদক্ষেপে দল আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল হবে।

রাজনীতির নতুন সমীকরণ

বহিষ্কারের মেঘ পুরোপুরি কেটে যাওয়ায় নাজিরপুরের রাজনীতিতে এখন এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিরে আসা এই দশ নেতা আগামী দিনে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। দলের ক্রান্তিকালে এমন সাহসী সিদ্ধান্ত তৃণমূলের কর্মীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেই মূলত অভ্যন্তরীণ সব বিভেদ মেটানোর চেষ্টা চলছে। এখন সবার লক্ষ্য হচ্ছে ঐক্যবদ্ধভাবে কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা।

আরও পড়ুন