সর্বশেষ
Loading breaking news...

ডক্টর ফরিদুল হুদার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির বিশাল স্মরণ সভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডক্টর ফরিদুল হুদার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ভাবগম্ভীর স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি গত বুধবার রাতে শহরের পুনিয়াউট এলাকায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সমবেত হয়ে তাদের প্রিয় নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই বিশাল আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

শীর্ষ নেতৃত্বের সরব উপস্থিতি

স্মরণ সভায় সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপল যিনি পুরো অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন। বক্তারা ডক্টর ফরিদুল হুদার রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁর সাহসী অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন ও অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার খোকন সেখানে উপস্থিত থেকে নেতার স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা "ডক্টর ফরিদুল হুদার স্মৃতি অক্ষয় হয়ে থাকবে" বলে দৃপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে হুদা

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি এবিএম মোমিনুল হকসহ অনেক প্রবীণ নেতা বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জু এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান শাহীন ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম খান রুমা নেতার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আরমান উদ্দিন পলাশ এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানও নেতার স্মরণে সেখানে যোগ দেন।

উত্তরসূরিদের শোকাবহ অংশগ্রহণ

এদিনের আয়োজনে মরহুম নেতার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে এক বিশেষ আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. নাজমুল হুদা বিপ্লব তাঁর পিতার স্মৃতি রক্ষায় সকলের দোয়া প্রার্থনা করেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আরেক ছেলে বদরুল হুদা পল্লবও এই স্মরণ সভায় উপস্থিত থেকে পিতার অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নেওয়ার শপথ নেন। পরিবারের সদস্যদের এমন সরাসরি অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে ২৭ বছর পরেও ডক্টর ফরিদুল হুদা জেলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা

স্মরণ সভা শেষে ডক্টর ফরিদুল হুদার রুহের মাগফেরাত কামনা করে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মাওলানা মনির হোসেন ধর্মীয় এই আচারটি অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে সম্পন্ন করেন যেখানে সকলে একযোগে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ মাহিনসহ আরও অনেকে এই দোয়া মাহফিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন। ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি ও মানুষের মনে ডক্টর ফরিদুল হুদার অবদান আজও অমলিন হয়ে আছে।

আরও পড়ুন