সর্বশেষ
Loading breaking news...

বগুড়ায় বিএনপিতে নজিরবিহীন বিদ্রোহ ধানের শীষের প্রার্থীকে ঠেকাতে মাঠে বিদ্রোহী নেতা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরমে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে খোদ নিজ দলেরই নেতার বিদ্রোহী অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। দলের মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন বিদ্রোহী নেতা একেএম এহসানুল তৈয়ব জাকির। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপে হতবাক বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল এবং সাধারণ কর্মীরা। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অস্থিরতা।

আপিলের নেপথ্যে ঘনীভূত রহস্য

রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পরেই জাকির এই চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সম্প্রতি তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে সশরীরে এই আপিল আবেদন জমা দিয়েছেন। গণমাধ্যমের কাছে আপিলের বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তাঁর এই রহস্যময় আচরণ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা সন্দেহের দানা বাঁধছে।

হতভম্ব ও বিব্রত প্রার্থী

নিজের দলের নেতার এমন বৈরী আচরণে প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, বিএনপির পদধারী হয়ে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। "একজন সৎ ও আদর্শিক মানুষ এমন কাজ করতে পারে না," বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি দলের মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। এই পরিস্থিতিতে তিনি এখন বিএনপির হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

জামায়াত প্রীতির গুরুতর অভিযোগ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়া-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন হলেন বিদ্রোহী নেতা জাকিরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের বেয়াইয়ের নির্বাচনী পথ নিষ্কন্টক করতেই জাকির নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন। কাজী রফিকুলের বক্তব্যের ভিডিও বিকৃত করে অপপ্রচার চালানোর পেছনেও জাকিরের হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির "শক্ত ঘাঁটি" হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলকে দুর্বল করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র চলছে। আত্মীয়তার সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে গিয়ে তিনি দলীয় আনুগত্য বিসর্জন দিয়েছেন বলে সমালোচনা হচ্ছে।

সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন এলাকাবাসী। বগুড়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানিয়েছেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে দল।

আরও পড়ুন