বগুড়ায় একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বগুড়ায় গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (শহীদ খোকন পার্ক) প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি শুরু হয়। এই দিনটি বাঙালির আত্মত্যাগের মহৎ ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বগুড়াবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বারবার উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে ভাষার প্রতি তাদের অবিচল ভালোবাসা।
প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদন
দিবসের সূচনালগ্নেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মানুষের ঢল নামে। প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বগুড়া প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নসহ নানা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সূচনা করেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। এসময় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রাজিয়া সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাউল করিম ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। একে একে বগুড়া পৌরসভা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বগুড়া ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। রাত যত গভীর হতে থাকে, সাধারণ মানুষের সারি তত দীর্ঘ হয়। একপর্যায়ে সেই সারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়িয়ে শহরের প্রধান সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। শোকাতুর পরিবেশে পরম মমতায় ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণ করে বগুড়াবাসী তাদের গভীর দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ
দিবসটি উপলক্ষে বগুড়া জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো শহীদ খোকন পার্কে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীন চাঁন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাইন এবং জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরাও সম্মিলিতভাবে শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, “মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য বাংলার সাহসী সন্তানেরা যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। এই বীর শহীদরাই আমাদের শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন।” বগুড়ার মানুষের এই শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, যা জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের অনন্য নিদর্শন।