সর্বশেষ
Loading breaking news...

৫ লাখে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে বগুড়ায় চিকিৎসা খাতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক অভাবনীয় ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হলো। বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রথমবারের মতো অত্যন্ত স্বল্প খরচে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে জটিল বোন ম্যারো বা স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট। নামমাত্র ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। শুক্রবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের বিস্তারিত তথ্য ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়।

বিদেশ নয়, দেশেই বিশ্বমানের সেবাসাধারণত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের মতো জটিল চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীদের ভারত, সিঙ্গাপুর বা লন্ডনের মতো দেশে পাড়ি জমাতে হয়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই চিকিৎসার খরচ প্রায় ৩০ লাখ টাকা, সিঙ্গাপুরে ৭০ লাখ এবং যুক্তরাজ্যে তা কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। সেখানে টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার মাত্র ৫ লাখ টাকায় এই অসাধ্য সাধন করেছে। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে আগত ৬০ বছর বয়সী মিজানুর রহমানের শরীরে এই সফল অস্ত্রোপচার করেন প্রখ্যাত হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ।

মৃত্যুঞ্জয়ী মিজানুরের নতুন জীবনরোগী মিজানুর রহমানের জন্য চিকিৎসার এই যাত্রাটি ছিল অত্যন্ত কঠিন ও অনিশ্চয়তায় ভরা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রোগ শনাক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় মাস বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও তিনি শারীরিক অবস্থার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাননি। অবশেষে ২০২৫ সালের আগস্টে টিএমএসএস-এ তাঁর স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সফল অস্ত্রোপচারের পর আবেগাপ্লুত মিজানুর বলেন,
‘মাসের পর মাস চিকিৎসার পর আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখানকার চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি নতুন জীবন পেয়েছি। এত কম খরচে এমন জটিল চিকিৎসা পাবো, তা ছিল কল্পনারও বাইরে।’


উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে মাইলফলকটিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন এবং ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মো. মতিউর রহমান এই অর্জনকে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা ও দক্ষ জনবল থাকলে ঢাকার বাইরেও আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদান সম্ভব। বিশেষত, উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জন্য ঘরের কাছেই এমন উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় সময় ও অর্থ—উভয়ই ব্যাপকভাবে সাশ্রয় হবে।

আস্থার সংকটে আশার আলোচিকিৎসকরা মনে করছেন, এই সফল অস্ত্রোপচার দেশের ক্যানসারজনিত রোগের চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ জোর দিয়ে বলেন, যথাযথ অবকাঠামো ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা থাকলে মফস্বল শহরেও জটিল রোগের বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। টিএমএসএস-এর এই সাহসী উদ্যোগ ভবিষ্যতে স্বল্প খরচে আরও বেশি মানুষের জীবনরক্ষাকারী সেবা নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন