সর্বশেষ
Loading breaking news...

বলিভিয়ায় নোটভর্তি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, মহাসড়কে টাকার বৃষ্টির মাঝে ১৫ প্রাণহানি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ব্যাংকনোট নিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান লা পাজের কাছে এল আল্টো শহরে বিধ্বস্ত হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে বিমানটি যখন অবতরণের চেষ্টা করছিল, তখনই ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়।
 

আকাশ থেকে ঝরে পড়া মরণফাঁদ

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সামরিক বিমানটি সান্টা ক্রুজ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এল আল্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে সেটি। এরপর বিমানটি সরাসরি আছড়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী একটি মহাসড়কে থাকা বেশ কিছু চলন্ত যানবাহনের ওপর। ভয়াবহ এই সংঘাতের পরপরই নিরাপত্তার খাতিরে বিমানবন্দরটির সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি করে।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ব্যাপক আগুন লেগে যায় এবং উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু ধ্বংসাবশেষের মধ্যে চাপা পড়ে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় জমে যায় এবং চিকিৎসকরা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
 

মূল্যহীন কাগুজে নোটের লোমহর্ষক উপাখ্যান

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, বিধ্বস্ত বিমানটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য নতুন ছাপানো বিপুল পরিমাণ নোট পরিবহন করছিল। তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেখানে এক অদ্ভুত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশ দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নোটগুলো সংগ্রহের জন্য ভিড় জমায়। যদিও মন্ত্রণালয় থেকে কড়া বার্তা দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে যে, ওই নোটগুলোর বর্তমানে কোনো ক্রয়ক্ষমতা নেই এবং সেগুলো সংগ্রহ বা ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ঘোষণা সত্ত্বেও কিছু লোক নোট সংগ্রহে লিপ্ত ছিল।
 

মহাসড়কে নেমে আসা আকস্মিক বিভীষিকা

দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বিমানের একটি চাকা ছিঁড়ে গিয়ে পড়ে পাশের একটি প্রাইভেট কারের ওপর। সেই গাড়িতে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শীর স্বজন জানান, বিকট শব্দের পর মুহূর্তেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। বিমানের চাকার আঘাতে তার বোন মাথায় গুরুতর চোট পান, যাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি বৈরী আবহাওয়া—ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে বলিভিয়া কর্তৃপক্ষ। এই দুর্ঘটনার ফলে বলিভিয়ার বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুন