ইরানে তীব্র উত্তেজনার জেরে তেহরান ছাড়লেন ব্রিটিশ কূটনীতিকরা ও বন্ধ হলো দূতাবাস
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও ঘনাচ্ছে অশনি সংকেত। ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস আকস্মিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূতসহ সকল কূটনীতিক ও কর্মীকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই পদক্ষেপটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা স্থলভাগের নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ।
নিরাপত্তা ও অগ্রাধিকার
ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই মূলত এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ আসে। এখন থেকে দূতাবাসের যাবতীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দূরবর্তী স্থান থেকে পরিচালিত হবে। এই কনস্যুলার পরিবর্তনের বিষয়টি প্রতিফলিত করতে ইরানের জন্য পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ নির্দেশিকাও হালনাগাদ করা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে "যুক্তরাজ্য সরকার" কোনো প্রকার আপস করতে নারাজ বলে জানানো হয়েছে।
অস্থির ইরান পরিস্থিতি
দূতাবাস বন্ধের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হস্তক্ষেপের সরাসরি হুমকি যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশ্বনেতারা এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বারবার আহ্বান জানালেও সংঘাতের আশঙ্কা কমছে না। ইরানের রাজপথে বিক্ষোভ ও সরকারি দমন-পীড়নের সংবাদ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত স্থান পাচ্ছে। তেহরানের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
পরাশক্তিদের স্নায়ুযুদ্ধ
সম্প্রতি ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ওয়াশিংটনের ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোকেও পাল্টা নিশানা করা হবে। এই হুমকির প্রেক্ষাপটে এর আগেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন তাদের কিছু কর্মী প্রত্যাহার করেছিল। এটি মূলত এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনারই একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানের এই কঠোর অবস্থান পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কও এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
ভ্রমণ নির্দেশিকা হালনাগাদ
ব্রিটিশ নাগরিকদের ইরান ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নতুন করে ট্রাভেল অ্যাডভাইস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কনস্যুলার সেবা রিমোটলি প্রদান করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে তেহরান থেকে কূটনীতিক প্রত্যাহার করার অর্থ হলো বড় কোনো সংঘাতের আশঙ্কা। বর্তমানে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তেহরানের ভবিষ্যৎ গতিপথ কোন দিকে যায় তা নিয়ে সারাবিশ্ব এখন গভীর উদ্বেগে রয়েছে।