ব্রুকের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
পাল্লেকেলের মাঠে হ্যারি ব্রুকের এক বিধ্বংসী ইনিংসে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের দেওয়া ১৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্রুক ৫১ বলে ১০০ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। তার এই অনবদ্য সেঞ্চুরি কেবল দলের জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং টুর্নামেন্টের ইতিহাসে রেকর্ড বইয়েও নতুন নাম লিখিয়েছে।
ব্রুকের ব্যাটে গেইলের রেকর্ড চূর্ণ ও অনন্য কীর্তি
অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরির বিরল সম্মান এখন হ্যারি ব্রুকের দখলে। এর আগে ক্রিস গেইলের ৯৮ রানই ছিল অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ। ব্রুক মাত্র ৫০ বলে তার শতক পূর্ণ করেন, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে তিনি বাটলার ও মালানের পর ইংল্যান্ডের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরির নজির গড়লেন।
রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা বিপর্যয়ে পড়েছিল। শাহিন শাহ আফ্রিদির বিধ্বংসী বোলিং পাকিস্তান শিবিরে আশার আলো জাগিয়েছিল। তবে ব্রুক ও উইল জ্যাকসের জুটিতে ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে। মাঝপথে মোহাম্মদ নাওয়াজ জোড়া আঘাত হানলেও ব্রুকের একাগ্রতা ইংল্যান্ডকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায়।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা পাঁচবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়ল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল। সাহিবজাদা ফারহানের লড়াকু ৬৩ রান সত্ত্বেও বাবর আজমের দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা ষষ্ঠ হারের স্বাদ পেল। লিয়াম ডসনের ২৪ রানে ৩ উইকেট ও ইংলিশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং পাকিস্তানের রানের গতি কমিয়ে দিয়েছিল।
ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হলেও পাকিস্তানের ভাগ্য এখন অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। ব্রুকের এই ইনিংসটিকে দীর্ঘ সময় মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব। অধিনায়কত্বের চাপের মুখে এমন দানবীয় ব্যাটিং প্রদর্শন করে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।