রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলিবর্ষণ বাংলাদেশি যুবক আটক
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক বাংলাদেশি যুবক আটক হয়েছেন। সোমবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী সীমান্ত এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আটককৃত যুবকের নাম মিস্টার আলী (২৫), যিনি ওই ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের কাছ থেকে তুলে নিয়ে যায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে ১০৬২ ও ১০৬৩ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার এলাকা দিয়ে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল সীমান্তে অবস্থান করছিল। এসময় ভারতের আসাম রাজ্যের মানকারচর শাহপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অতর্কিতভাবে গেট খুলে তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে দলের বাকি সদস্যরা পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে পারলেও মিস্টার আলী বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে যান।
আতঙ্কে স্থানীয় জনপদ
সীমান্তে গুলিবর্ষণের এই ঘটনার পর থেকে খাটিয়ামারী ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিএসএফ সদস্যরা ওই যুবককে জোরপূর্বক তাদের ক্যাম্পে নিয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
এই বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীন মোল্লাচর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ফখরউদ্দিন জানান, তিনিও এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তার নিয়ন্ত্রিত সুনির্দিষ্ট সীমান্ত এলাকা থেকে কাউকে আটক করা হয়নি; ঘটনাটি মূলত ১০৬৩ নম্বর পিলারের কাছে ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
বিজিবির পদক্ষেপ ও পর্যবেক্ষণ
অন্যদিকে, রৌমারী সদর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গুলির ঘটনা এবং আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য টহলরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পর বিএসএফের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ স্থাপন এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।