সর্বশেষ
Loading breaking news...

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৮৮ লাখ সিম বাতিল, কমলো ৬২ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিম ব্যবহারের সুযোগ বাতিল করে সংস্থাটি ৮৮ লাখেরও বেশি অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করেছে। এই বিশাল সংখ্যক সিম বাতিলের ফলে দেশের মোবাইল ও ইন্টারনেট খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক মাসে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৬২ লাখেরও বেশি গ্রাহক ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।

অতিরিক্ত সংযোগে কঠোর আঘাত

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, সাইবার অপরাধ রোধে এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকার গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে অতিরিক্ত সিম বন্ধের উদ্যোগ নেয়। বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান জানান, ‘এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৮৯ লাখ অতিরিক্ত সিম চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৮৮ লাখই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিআইপিসহ কিছু আইনি জটিলতা থাকায় বাকি সিমগুলো আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যা শিগগিরই পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হবে।

নির্বাচন শেষে পাঁচ সিম নীতি

মন্ত্রণালয় চলতি বছরের জানুয়ারিতেই সিমের সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছিল, তবে জনরোষ ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই এই ‘পাঁচ সিম নীতি’ কার্যকর করা হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনিরুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে ৬ থেকে ১০টি সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় হুট করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

মোবাইল ইন্টারনেট বনাম ব্রডব্যান্ড

বিটিআরসির সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত জুলাই মাসে যেখানে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ১২ কোটি ১৫ লাখ, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখে। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ৬২ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক কমেছে, পাশাপাশি মোট মোবাইল গ্রাহক সংখ্যাও ১৯ কোটি ৪২ লাখ থেকে ১৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে এসেছে। তবে মোবাইল ইন্টারনেটের এই ধসের বিপরীতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৩৫ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ৪৬ লাখে উন্নীত হয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন, সিমের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং ব্রডব্যান্ডের সহজলভ্যতা এই পরিবর্তনের মূল কারণ। তিনি বলেন, সিমের ব্যবহার কমলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল ব্রডব্যান্ড সেবার দিকে ঝুঁকছে। তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, ভবিষ্যতে সিমের সংখ্যা পাঁচে নামিয়ে আনা হলে মোবাইল অপারেটরদের রাজস্ব আয়ে বড়সড় ধস নামতে পারে, যা সামগ্রিক টেলিযোগাযোগ খাতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করবে।

আরও পড়ুন