ক্ষেতজুড়ে সোনালি ফসল, তবুও হাসি নেই কৃষকের মুখে; ভাঙ্গার হাটে হঠাৎ হাহাকার!
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পেঁয়াজ চাষের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সুপরিচিত। এ বছর উপজেলার বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রকৃতির এই উদারতায় কৃষকের মুখে হাসি ফোটার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মৌসুমের শুরুতে আশানুরূপ দাম মিললেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ধস নামায় চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
ভাঙ্গায় বর্তমানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। গত বছর ভালো মুনাফা পাওয়ায় এবার চাষিরা অধিক উৎসাহে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। সপ্তাহের প্রতি সোমবার ও শুক্রবার বসে অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পাইকারি হাট—ভাঙ্গা বাজার, যেখানে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে বেপারিরা ভিড় জমান। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এই হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১,৬০০ থেকে ২,০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে তা ১,০০০ টাকায় নেমে এসেছে।
খরচের জাঁতাকলে পিষ্ট কৃষকের স্বপ্ন
বাজারদরের এই আকস্মিক পতনের ফলে উৎপাদন খরচ তোলাই এখন দায় হয়ে পড়েছে। কৃষক নূর আলম মুন্সী জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন এবং ফলনও চমৎকার হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে তিনি পুঁজি হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন। চড়া দামে বীজ, সার ও কীটনাশক কেনার পাশাপাশি দিনমজুরের বাড়তি মজুরি গুনতে হয়েছে, যা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি দপ্তরের পরিসংখ্যানে অবশ্য ফলনের চিত্রটি বেশ ঈর্ষণীয়। ভাঙ্গা পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাফি-নূর হাসান জানান, পৌর এলাকায় ৬৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে, যেখানে ফলন হয়েছে আশাতীত। অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল মামুন জানান, মোট ৫২৫ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবং প্রতি হেক্টরে প্রায় ২০ টন ফলন রেকর্ড করা হয়েছে।
মাঠভরা ফসল এবং কৃষি অফিসের ইতিবাচক পরিসংখ্যান থাকলেও, দিনশেষে পকেটে টাকা না আসায় কৃষকের হতাশা কাটছে না। সাধারণ চাষিদের দাবি, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে পেঁয়াজের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সরকারি হস্তক্ষেপ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আগামীতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবে এই অঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার।