ক্যালগেরিতে শিশুদের সৃজনশীল আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
কানাডার ক্যালগেরিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেন্টার প্রাঙ্গণে অবস্থিত ক্যালগেরি বাংলা স্কুলের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল শিশুদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চেতনায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা, যা প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক পটভূমি সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত দর্শক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। এরপরই শুরু হয় শিশুদের পরিবেশনা। গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে তারা মাতৃভাষার প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করে। বিশেষভাবে নজর কেড়ে নেয় আয়োজিত হাতের লেখা প্রতিযোগিতা। ভাষাভিত্তিক এই সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহব্যঞ্জক পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ভাষা সংরক্ষণের সম্মিলিত অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউদার্ন আলবার্টা হেরিটেজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মাইকেল এমবাই। তিনি বলেন, “ঐতিহ্যবাহী ভাষা শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও পরিচয়কে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস।” বিসিএওসি-এর সেক্রেটারি আসিফ হোসেন উল্লেখ করেন যে, এমন আয়োজন কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এবং তিনি আশা করেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর চেয়েও বড় পরিসরে বাংলা ভাষার চর্চা করবে।
ক্যালগেরি বাংলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসজাদ রনি জানান, শিশুদের গান, আবৃত্তি ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতা প্রমাণ করে যে ভাষা আনন্দের মাধ্যমেও শেখানো সম্ভব। ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শিশুদের কাছে সরলভাবে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আজকের শিশুদের হাতে বাংলা তুলে দিতে পারলে আগামী প্রজন্ম কানাডার মাটিতে বাংলার মর্যাদা আরও উঁচুতে স্থাপন করবে।”
আগামীর পথে বাংলা সংস্কৃতি
সহ-প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রায়হানও জোর দেন যে শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিউনিটির সমন্বিত চেষ্টাতেই শিশুদের বাংলা শেখার পথ আনন্দময় হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অভিভাবকেরা একমত পোষণ করেন যে, সন্তানদের মধ্যে বাংলা ভাষা চর্চা এবং দেশীয় সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শ্রেণিকক্ষের বাইরের এমন সৃজনশীল আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজকেরা ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।