সর্বশেষ
Loading breaking news...

বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৫৫ জনের নাম উল্লেখ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে নজিরবিহীন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় ৫৫ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা হিসেবে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

হামলার ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতি

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গতকাল দুপুরে হঠাৎ করেই একদল উত্তেজিত জনতা বিটিআরসি ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নিচতলার অভ্যর্থনা কক্ষ, নিরাপত্তা চৌকি এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা ভবনের জানালার কাঁচ এবং মূল্যবান আসবাবপত্র তছনছ করে ফেলে। এ সময় বিটিআরসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে দিগ্বিদিক ছুটোছুটি শুরু করেন।

 

 

 

পুলিশের কঠোর অবস্থান

 

 

 

মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এধরণের হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

 

 

 

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

 

 

 

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিটিআরসি ভবনের আশেপাশে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তারা বদ্ধপরিকর, তবে কর্মীদের মধ্যে এখনো ভীতি কাজ করছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে ভবনের নিরাপত্তা প্রোটোকল ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

 

 

হামলার নেপথ্যের কারণ

 

 

 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং ডাটা প্যাকেজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। তবে পুলিশ খতিয়ে দেখছে এর পেছনে কোনো সংগঠিত রাজনৈতিক উসকানি বা স্বার্থান্বেষী মহলের হাত আছে কিনা। তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সাধারণ গ্রাহকরাও এই সহিংস ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন