চট্টগ্রামের হালিশহরে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় ট্র্যাজেডির পাল্লা আরও ভারী হলো। মৃত্যুর মিছিলে এবার যুক্ত হলো ১৬ বছর বয়সী কিশোর শাওন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শাওন। এর আগে সোমবার একই ঘটনায় নুর জাহান আক্তার রানী নামের এক নারী প্রাণ হারান। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা এখন দুইয়ে দাঁড়ালো। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কিশোর শাওন ও বার্ন ইউনিটের হাহাকার
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, কিশোর শাওনের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল। আগুনের লেলিহান শিখায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তার শ্বাসনালী। সোমবার উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বর্তমানে একই পরিবারের আরও চারজন সদস্য এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তাদের বেঁচে থাকার লড়াই এক করুণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ভস্মীভূত রান্নাঘর ও একটি সাজানো পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার ভোরে। হালিশহরের এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামক ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি রান্নাঘরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে, যাতে মোট ৯ জন দগ্ধ হন। নুর জাহান আক্তার রানীর শরীর শতভাগ পুড়ে যাওয়ায় সোমবার বিকালেই ঢাকার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন পাখী আক্তার এবং সাখাওয়াতের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন, কারণ তাদের শরীরের শতভাগ অংশ পুড়ে গেছে।
শিশুদের সংকটজনক অবস্থা ও দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা
এছাড়া চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে আনাস, আইমান ও আয়েশার অবস্থাও স্থিতিশীল নয়। একটি সাজানো পরিবারের হাসি-খুশি মুহূর্তগুলো এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ আর হাসপাতালের বারান্দায় গুমোট কান্নায় রূপ নিয়েছে। এই ঘটনা পরিবারের উপর এক বিশাল মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা এবং যত্নের প্রয়োজন হবে। এই পরিস্থিতিতে তাদের পুনর্বাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গ্যাস বিস্ফোরণের সঠিক কারণ নির্ণয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে গ্যাস লাইনে সম্ভাব্য ছিদ্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রয়োজন। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় গভীরভাবে মর্মাহত, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিরোধযোগ্য দুর্যোগ থেকে জীবন রক্ষায় আবাসিক গ্যাস সংযোগের কঠোর নিরাপত্তা পরিদর্শনের দাবি বাড়ছে।