ফতুল্লায় মাদক ব্যবসায়ীর হাতে বাবুর্চি খুনের ঘটনায় এলাকায় বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তুচ্ছ বিবাদের জেরে রায়হান মিয়া নামের এক বাবুর্চিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রায়হান মিয়া তার তিন পুত্র নিয়ে তল্লা এলাকায় সিরাজ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কয়েকদিন আগে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাকের সাথে তার সামান্য বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাটিই শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক খুনের ঘটনায় রূপ নিয়েছে বলে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন।
পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা
সেই বিবাদের জেরে রাজ্জাক ও তার দলবল ইতিপূর্বে রায়হান মিয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিল। নিহতের সন্তানেরা তখন রাজ্জাককে তাদের বাবার থেকে দূরে থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা সেই সতর্কবার্তাকে তোয়াক্কা না করে বরং রায়হান মিয়ার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। তারা সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে ছিল যেন তাকে রাস্তায় একা পাওয়া যায়।
একা পেয়ে নৃশংস কোপ
সোমবার রাতে রায়হান মিয়া যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ঘাতক রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ধরে। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় একা পেয়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে রায়হান মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। ততক্ষণে তার শরীরের ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
চিকিৎসকের মৃত্যু ঘোষণা
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রায়হান মিয়াকে "মৃত ঘোষণা করা হলো" বলে জানান। এই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নাগরিকের এমন করুণ মৃত্যু জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। খুনিদের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবি এখন সর্বত্র ধ্বনিত হচ্ছে।
পুলিশের তদন্ত শুরু
খবর পাওয়ার পরপরই ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ঘাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলে ওসি আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের "দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস" দিয়েছেন।