সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইফতার আয়োজন করে বিপাকে ছাত্রদল নেতা: শোকজ ঘিরে উত্তপ্ত ঢাবি ক্যাম্পাস

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সাংগঠনিক তোপের মুখে পড়েছেন কবি জসীমউদ্‌দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। নিজ সংগঠনের পক্ষ থেকেই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ দেওয়া হয়েছে। তবে এই শোকজ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং পদ্ধতি নিয়ে খোদ সংগঠনের ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং ক্যাম্পাসে বিষয়টি নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

অন্ধকারে শোকজ ও রহস্যময় অভিযোগ

গত শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদকের ফেসবুক পেজে হঠাৎ একটি শোকজ পত্র প্রকাশিত হয়, যা দেখে হতবাক হয়ে যান শেখ তানভীর বারী হামিম। নোটিশে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়নি। হামিম অভিযোগ করেন, তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো দাপ্তরিক চিঠি না দিয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোটিশটি প্রকাশ করা হয়েছে, যা একজন নির্বাচিত ছাত্রনেতার জন্য অবমাননাকর। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও শোকজের সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারির একটি ইফতার মাহফিলই মূলত এই শোকজের নেপথ্য কারণ। ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপুল সমর্থনে জিএস পদে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ভোট পাওয়া হামিম তার দায়বদ্ধতা থেকেই প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এই ইফতার ও কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। ধর্মীয় এই আয়োজনকে কেন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করা হলো, তা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

লিখিত জবাব না দেওয়ার ঘোষণা

শোকজ নোটিশের কোনো লিখিত জবাব দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ছাত্রদল নেতা হামিম। তার যুক্তি, যেহেতু তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি কেবল ফেসবুকের দেয়ালে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, তাই এর কোনো দাপ্তরিক জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না। তিনি মনে করেন, এটি সাংগঠনিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। কিন্তু যদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা কোনো অন্যায় হয়ে থাকে, তবে সেই অন্যায়ের দায়ভার আমি মাথা পেতে নিতে রাজি আছি।’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

আরও পড়ুন