সর্বশেষ
Loading breaking news...

মিয়ানমারের গুলিতে বিদ্ধ শিশু হুজাইফার মাথায় আটকে আছে বুলেট, জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

টেকনাফের সীমান্ত জনপদে নেমে এসেছে গভীর বিষাদ ও শোকের ছায়া। মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা আফনান। মাত্র নয় বছর বয়সী এই নিষ্পাপ শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তার মাথার গভীরে আটকে থাকা বুলেটটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও বের করা সম্ভব হয়নি, যা চিকিৎসকদেরও অসহায় করে তুলেছে এবং পরিবারকে ফেলেছে চরম উৎকণ্ঠায়।

ব্রেইনের সন্নিকটে বুলেট: অপারেশনের দুঃসাধ্য চেষ্টা

চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, বুলেটটি হুজাইফার মুখ দিয়ে প্রবেশ করে সরাসরি মস্তিষ্কের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত হেনেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশন থিয়েটারে চেষ্টা চালালেও মস্তিষ্কের অতি সন্নিকটে অবস্থান করায় গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, জোর করে বুলেটটি বের করতে গেলে পেছনের রক্তনালী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে, যা শিশুটির প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। তাই আপাতত খুলির হাড়ের কিছু অংশ সরিয়ে মাথার চাপ কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খুলি সরানো হলো, কিন্তু বুলেট রয়ে গেল

শিশু হুজাইফার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি নেই, বরং সময় যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। চাচা শওকত আলী অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, রবিবার রাতে অপারেশন হলেও চিকিৎসকরা বুলেটটি স্পর্শ করতে সাহস পাননি। তিনি বলেন, ‘মাথার চাপ কমাতে ওর খুলির অংশবিশেষ কেটে ফ্রিজে রাখা হয়েছে, অথচ ঘাতক বুলেটটি এখনো মাথার ভেতরেই রয়ে গেছে।’ লাইফ সাপোর্টে থাকা শিশুটির দিকে তাকিয়ে পরিবারের সদস্যদের বোবা কান্না আর আর্তনাদ থামছেই না।

সাধারণ এক সকালে সর্বনাশ

রবিবার সকালে বাড়িতে পিঠা তৈরির উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই পানি আনতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয় হুজাইফা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাস্তা শেষে পানি আনতে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মাদ্রাসাগামী হুজাইফার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর আসে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। বিকাল ৪টায় আইসিইউতে ভর্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত শিশুটির জ্ঞান ফিরেনি বা অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।

সীমান্তে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টেকনাফের সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে একের পর এক সাধারণ মানুষ ও শিশুরা এভাবে জখম হচ্ছে যা মেনে নেওয়া কঠিন। হুজাইফার পরিবার এখন কেবল অলৌকিক কোনো মিরাকলের আশায় হাসপাতালের করিডোরে প্রহর গুনছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।

আরও পড়ুন