চিলমারীর পথে পথে আগুনের লেলিহান শিখা! শিমুলতলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রকৃতি সেজেছে এক অপরূপ সাজে। উপজেলার মেঠোপথ জুড়ে জেগে উঠেছে প্রকৃতির এক অনন্য মায়াবী আগুন। রাস্তার ধারের সারি সারি শিমুল গাছগুলো এখন একেকটি রক্তিম প্রদীপের মতো জ্বলছে, যা দূর থেকেও ফাগুনের সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের গানের মতোই শিমুল বন যেন রাঙিয়ে দিয়েছে স্থানীয়দের মন ও প্রান্তর।
প্রকৃতির ক্যানভাসে রক্তিম বিপ্লব
চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ি মালেক মোড় থেকে সাদুল্লা যাওয়ার প্রতিটি বাঁকেই এখন শিমুলের রাজকীয় সমারোহ। যতদূর চোখ যায়, মনে হয় কেউ যেন সবুজ জমিনের ওপর এক বিশাল লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এবং এক চিলতে শান্তির খোঁজে মানুষ এখন ছুটে আসছে এই শিমুলতলায়। কেউ হাতে ক্যামেরা নিয়ে এই রঙিন মুহূর্তটি ফ্রেমবন্দি করছেন, আবার কেউ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই অনবদ্য রূপ।
এক সময় এই শিমুল গাছগুলো কেবল বাণিজ্যিক তুলা সংগ্রহের উৎস হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা এখন পর্যটন ও বিনোদনের এক চমৎকার অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বসন্তের এই সময়টিতে চিলমারীর নির্জন পথগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে ছুটে আসছেন। শান্ত, সৌমিক ও রিফাতের মতো দর্শনার্থীরা জানান, ফেসবুকের মতো মাধ্যমে এই অপূর্ব দৃশ্যের ছবি দেখে তারা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি।
বিলুপ্তির শঙ্কা ও নতুন মুগ্ধতা
যদিও শিমুলের এই চোখজুড়ানো দৃশ্য মন কেড়ে নিচ্ছে সবার, তবুও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘশ্বাস। প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, আগের তুলনায় বড় বড় শিমুল গাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ঐতিহ্যের এই অংশটুকু রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। তবুও যেটুকু সৌন্দর্য এখনও টিকে আছে, তা ঘিরেই বসন্তের এই ক'দিন চিলমারীর জনপদে বইছে আনন্দের জোয়ার।
দর্শনার্থীদের এই উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, প্রকৃতির শুদ্ধ রূপ আজও মানুষকে সমানভাবে বিমোহিত করতে সক্ষম। শিমুল ফুলের এই আগুনের লেলিহান শিখা কেবল চোখের আরামই নয়, বরং যান্ত্রিকতার ভিড়ে ক্লান্ত মনের জন্য এক পশলা প্রশান্তি নিয়ে এসেছে চিলমারীর পথে পথে।