চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪, দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু
চট্টগ্রামের হালিশহরে সংঘটিত ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। শতভাগ দগ্ধ শরীর নিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে আজ সকালে মৃত্যুর কাছে নতি স্বীকার করেছেন ৩০ বছর বয়সী গৃহবধূ আসুরা আক্তার পাখি। রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত করেছে।
মৃত্যুযন্ত্রণার কাছে হার মানল জীবন
পাখি চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার রহিমানগর গ্রামের আবুল বাশারের সন্তান ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের শতভাগ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্বাসনালিতে মারাত্মক জখম হয়েছিল। বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাঁর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ভারী হয়ে ওঠে।
হালিশহরের এই একই দুর্ঘটনায় এর আগে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন নূরজাহান আক্তার, তাঁর শিশু সন্তান শাওন এবং দেবর সুমন। আসুরা আক্তার পাখির বিদায়ে একটি পরিবারের একাধিক সদস্যের এমন করুণ পরিণতি পুরো চট্টগ্রামবাসীকে ব্যথিত করেছে। একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শঙ্কা কাটেনি আরও পাঁচ দগ্ধের
বিস্ফোরণের এই ঘটনায় এখনো পাঁচজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, তাঁদের প্রত্যেকের শরীরের অধিকাংশ অংশ ভস্মীভূত হওয়ায় তাঁদের জীবনপ্রদীপ এখন নিভু নিভু। উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সত্ত্বেও দগ্ধদের শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। তাঁদের প্রাণ বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মেডিকেল বোর্ড।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি চট্টগ্রামের আবাসিক এলাকার গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং ত্রুটিপূর্ণ পাইপলাইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে।