সর্বশেষ
Loading breaking news...

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে চট্টগ্রামে অর্ধশতাধিক গ্রামে রোজা শুরু

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

প্রচলিত পদ্ধতির ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রায় অর্ধশত গ্রামে আজ, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সেহরি গ্রহণের মাধ্যমে বুধবার থেকে পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম পালন শুরু হচ্ছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একদিন আগে ধর্মীয় কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ আগামীকাল থেকেই রোজা রাখা শুরু করবেন।

মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজের মধ্য দিয়ে এই বৃহৎ অংশের মুসলিমদের রমজানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা এবং পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এই নিয়ম অনুসরণ করেন। ধারণা করা হয়, প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা আরব বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন।

২০০ বছরের ঐতিহ্য: কেন এই ভিন্নতা?

মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতকানিয়ার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, আছারতলি; লোহাগাড়ার কলাউজান; বাঁশখালীর জালিয়াপাড়া; পটিয়ার হাইদগাঁও সহ প্রায় ৫০টি গ্রাম। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মুরিদরাও এই রীতি অনুসরণ করেন। এমনকি জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মতো বিদেশে বসবাসকারী অনুসারীরাও মঙ্গলবার রাতে সেহরি খেয়ে রোজা শুরু করবেন।

দ্রাঘিমাংশ ও মক্কার চাঁদ দেখা: ভিন্ন ধর্মীয় দর্শনের ব্যাখ্যা

মির্জাখীল দরবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই’শ বছর আগে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) হানাফি মাজহাবের ফতোয়া অনুযায়ী পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। দরবারের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই জানিয়েছেন, হানাফী মাযহাবের অনুসারী হিসেবে আরব বিশ্বে চাঁদ দেখার খবর ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশের হিসেবে মক্কা ও মদীনা শরীফে চাঁদ দেখার খবরের ভিত্তিতেই তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই ঐতিহ্যবাহী প্রথাটি বাংলাদেশের ধর্মীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে, যেখানে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের পাশাপাশি স্থানীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের চর্চাও বিদ্যমান।

আরও পড়ুন