নিউজিল্যান্ডকে সঠিক পথে ফেরানোর মিশনে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের অগ্নিপরীক্ষা
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন তার মেয়াদের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থাকে 'সঠিক পথে' ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মুদ্রাস্ফীতি, আবাসন সংকট এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। লাক্সন বলেন, "আমরা জানি পথটা কঠিন, কিন্তু আমরা সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছি। জনগণের আস্থা আমাদের ওপর আছে।"
অর্থনৈতিক সংস্কারের চ্যালেঞ্জ
লাক্সন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বেশ কিছু কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং কর ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এই পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে। তবে বিরোধী দল লেবার পার্টি বলছে, এই নীতিগুলো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে এবং ধনীদের সুবিধা দিচ্ছে।
জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা
জনমত জরিপে দেখা গেছে, সরকারের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে। লাক্সন এখন সারা দেশ ঘুরে জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি 'টাউন হল' মিটিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো শুনবেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেবেন। তার এই 'মেক-অর-ব্রেক' মিশন আগামী নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন নীতির বাস্তবায়ন
সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। লাক্সন বলেন, "আমাদের লক্ষ্য একটি দক্ষ ও আধুনিক নিউজিল্যান্ড গড়ে তোলা।" তিনি মাওরি জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়েও কথা বলেন এবং বিভেদ ভুলে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তবে তার কিছু নীতি নিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ
ক্রিস্টোফার লাক্সনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তিনি কতটা সফলভাবে বর্তমান সংকটগুলো মোকাবিলা করতে পারেন তার ওপর। যদি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায় এবং অপরাধ কমে, তবে তিনি নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হবেন। আর ব্যর্থ হলে তার দলকে চড়া মূল্য দিতে হবে। আগামী কয়েকটি মাস নিউজিল্যান্ডের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ঘটনাবহুল হতে যাচ্ছে।