সর্বশেষ
Loading breaking news...

দ্বিগুণ দামে জমি কিনে সিটি ব্যাংকের সুউচ্চ ভবন নির্মাণ নিয়ে তোলপাড়

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে জমি ক্রয় করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের পথে হাঁটছে সিটি ব্যাংক। খোদ রাজধানীর গুলশানের বুকে এমন আকাশচুম্বী খরচের সিদ্ধান্তে ব্যাংকপাড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, গ্রাহক ও আমানতকারীদের স্বার্থকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক প্রকার হটকারী সিদ্ধান্তেই এগোচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই বিপুল অপচয়ের ফলে আমানতের ঝুঁকি ও পরিচালন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রহস্যময় লেনদেন ও দুর্নীতির গন্ধ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশানে ২৮ তলা নিজস্ব ভবন তৈরির জন্য পার্শ্ববর্তী ২০ কাঠা জমি কিনছে সিটি ব্যাংক। গুলশান এভিনিউতে কমার্শিয়াল জমির বর্তমান বাজারমূল্য কাঠাপ্রতি আট কোটি টাকার আশেপাশে হলেও, ব্যাংকটি তা কিনছে প্রায় ১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। এই অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিত দামের বিষয়টি জানাজানি হতেই দুর্নীতির গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। স্থানীয় জমি ব্যবসায়ীদের মতে, এত চড়া দামে জমি কেনাবেচা নজিরবিহীন এবং এটি পার্শ্ববর্তী জমির মূল্যেও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দরে জমি কেনা হলে সেখানে কোনো পক্ষ অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে। বিক্রেতা আসলেই সেই টাকা পাচ্ছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

জমির এই বাড়তি দাম ও নির্মাণব্যয় মিলিয়ে মোট খরচের প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে ব্যাংকের মুনাফায় বড় ধস নামতে পারে। এতে একদিকে যেমন পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হবেন, অন্যদিকে মুনাফা কমে যাওয়ায় সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। যদিও সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা নিয়ম মেনেই শেয়ারবাজারে তথ্য প্রকাশ করেছে, তবুও অপচয়ের এই খড়গ শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপরই পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নান্দনিকতার দোহাই ও কর্তৃপক্ষের সাফাই

ইতিমধ্যেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ২৮ তলা এই সুউচ্চ ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরেছে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ভবনের ৫ তলা পর্যন্ত থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা এবং বাকি ২৩ তলা ব্যবহৃত হবে প্রধান কার্যালয় হিসেবে। এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্বজুড়ে ব্যাংকের ভবনগুলো যেমন দৃষ্টিনন্দন হয়, তাঁরাও বাংলাদেশে তেমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। তবে নান্দনিকতার অজুহাতে গ্রাহকের আমানতের অর্থের এমন যথেচ্ছ ব্যবহার কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের মুখে মুখে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও জনস্বার্থ

সিটি ব্যাংকের নতুন প্রধান কার্যালয়ের জন্য এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি আর্থিক বিচক্ষণতা এবং কর্পোরেট শাসনের ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সমালোচকদের মতে, মূল ব্যাংকিং পরিষেবা বা শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্নের চেয়ে বিলাসবহুল অবকাঠামোর উপর অগ্রাধিকার দেওয়া একটি ভুল পদক্ষেপ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উচিত এই বর্ধিত জমি মূল্য এবং সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয়ের জন্য একটি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রদান করা। জন আস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা স্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভর করে, বিশেষ করে যখন জনগণের অর্থ জড়িত থাকে।

আরও পড়ুন