ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র ভাঙ্গা, আহত অন্তত ৩০
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’টি বিবদমান গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চলা এই ব্যাপক সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং এতে অন্তত ৩০ জন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘাতের উৎস ও উত্তেজনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই সংঘর্ষের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত সড়ইবাড়ি গ্রাম। এখানে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় প্রভাবশালী হাবিবুর রহমান তালুকদার গোষ্ঠী এবং কবির খান গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে টানাপোড়েন চলছিল। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যার সূত্রপাত হয় দুই দিন আগে। সূত্রের খবর, কবির খান গোষ্ঠীর অনুসারীরা গ্রামের রাস্তায় প্রকাশ্যে হাবিব তালুকদার গোষ্ঠীর সমর্থক শহীদ খানকে নৃশংসভাবে মারধর করে, আর এই আক্রমণের পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
চার ঘণ্টার তাণ্ডব ও ভাঙচুর
শহীদ খানকে মারধরের ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এই ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম নিশ্চিত করেছেন যে, এই দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে দু’পক্ষই দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র, ঢাল ও সড়কিসহ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওসি আরও জানান, পূর্বের শত্রুতার জেরে কবির খান পক্ষের বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তাণ্ডবের ফলে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ভীতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশের কঠোর অবস্থান
অবশেষে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ওসি আব্দুল আলিম জানিয়েছেন, বর্তমানে সড়ইবাড়ি গ্রামের পরিবেশ শান্ত রয়েছে, তবে পুনরায় যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা না ছড়ায়, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই সংঘাতের মূল কারণ উদঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত করতে তৎপর হয়েছে।
জনমনে আতঙ্ক ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও স্থানীয়দের মনে এখনো আতঙ্কের রেশ কাটেনি। বসতবাড়ি ভাঙচুর ও রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেকেই নতুন করে হামলার আশঙ্কা করছেন। প্রশাসন এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছে যে, যারা এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।