সর্বশেষ
Loading breaking news...

লবণাক্ততা ও তীব্র তাপ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে চাষাবাদ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি খাত এক বড় সংকটের মুখে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং তীব্র দাবদাহ কেবল তত্ত্ব নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ কৃষকের কাছে এখন তিক্ত বাস্তবতা। উপকূলীয় জেলাগুলোতে লবণাক্ততা এতটাই বেড়েছে যে, একসময়ের উর্বর ধানি জমিগুলো এখন অনুর্বর হয়ে পড়ছে। এর ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে ভাবনার দাবি রাখছে।

দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততার থাবাসাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের মতো জেলাগুলোতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় প্রচলিত ধানের চাষ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বংশপরম্পরায় আমন ও বোরো চাষ করা কৃষকরা এখন দিশেহারা।
"মাঠের পানি এত নোনা যে তা দিয়ে চাষ করা তো দূরের কথা, মুখেও দেওয়া যায় না,"
জানান স্থানীয় এক কৃষক। বাধ্য হয়ে অনেকেই চিংড়ি চাষের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে।


দাবদাহ ও ফলন বিপর্যয়দক্ষিণাঞ্চল যখন লোনা পানির সাথে লড়ছে, উত্তরাঞ্চল তখন পুড়ছে তীব্র দাবদাহে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ফসলে 'হিট স্ট্রেস' দেখা দিচ্ছে, ফলে ধানের দানা অপুষ্ট থেকে যাচ্ছে। কৃষি গবেষকদের মতে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বাড়লেই চালের উৎপাদন উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমে যায়। ঋতুর এই খামখেয়ালি আচরণে কৃষকরা সঠিক সময়ে বীজ বপন ও ফসল কাটতে পারছে না।

অভিযোজনই আগামীর ভরসাসংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষিতে বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) লবণাক্ততা ও তাপসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়াও বন্যাকবলিত এলাকায় ভাসমান সবজি চাষের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও কৃষকদের সহনশীলতাই আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন