কক্সবাজারে কুখ্যাত ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’র পতন, ৯ ডাকাত গ্রেপ্তার ও ৪ জেলে উদ্ধার
কক্সবাজারের সমুদ্রসীমায় ত্রাস সৃষ্টিকারী কুখ্যাত ডাকাত দল ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’র দাপট গুঁড়িয়ে দিয়েছে কোস্টগার্ড। এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীরসহ ৯ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুঃসাহসিক অভিযানে দস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জিম্মি ৪ জেলেকে এবং জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র। কোস্টগার্ডের এই সাফল্যে সমুদ্রপথে চলাচলকারী ব্যবসায়ী ও জেলেদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সমুদ্রবক্ষে রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া ও গোলাবর্ষণ
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার বিকেলে, যখন মহেশখালীর সোনাদিয়া চর সংলগ্ন এলাকায় ‘এফ বি মায়ের দোয়া-৩’ নামক একটি মাছ ধরার ট্রলারে হানা দেয় একদল জলদস্যু। বিপদ টের পেয়ে জেলেরা কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে কোস্টগার্ডের কক্সবাজার ও মহেশখালী স্টেশনের সদস্যরা। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ডাকাতদের ট্রলারটিকে থামানোর জন্য ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে আভিযানিক দল। শেষ পর্যন্ত দস্যু সর্দার জাহাঙ্গীরসহ ৫ জনকে আটক করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় ২ জন জেলেকে।
অপারেশন লাবনী পয়েন্ট ও দস্যুতার অবসান
আটক ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয় কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্ট এলাকায়। সেখানে সফল অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর বাহিনীর আরও ৪ সদস্যকে পাকড়াও করা হয় এবং তাদের ডেরা থেকে আরও ২ জন জিম্মি জেলেকে মুক্ত করা হয়। পুরো অভিযানে ৩টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জেলে ও সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই কুখ্যাত দস্যু বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। ১৬১১১ নম্বরে জেলেদের জরুরি বার্তা পাওয়ার পর বাহিনীটি দ্রুততম সময়ে সাড়া দিয়ে এই বিশাল সাফল্য অর্জন করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অপহরণ ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবী নেতৃবৃন্দ এই সফল অভিযানের জন্য কোস্টগার্ডকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, জাহাঙ্গীর বাহিনীর পতনের ফলে জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা অনেকটা কমে আসবে। ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং দস্যু দমনে কোস্টগার্ডের এই অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করছে।