হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে তেঁতুলিয়া পারদ নামল ৮ ডিগ্রিতে
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা গাণিতিক হিসেবে সামান্য বাড়লেও কমেনি হাড়কাঁপানো শীতের দাপট। হিমালয় থেকে বয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় দেশের এই প্রান্তিক জনপদে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রার পারদ ও শঙ্কার পূর্বাভাস
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, ভৌগোলিকভাবে হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এখানে শীতের তীব্রতা স্বভাবতই অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। বুধবার ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও, মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সকাল ৯টায় তা নেমে আসে ৮ ডিগ্রিতে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৮ শতাংশ থাকায় শীতের অনুভূতি আরও প্রকট হচ্ছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস বলছে, সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও নিচের দিকে নামতে পারে।
হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়
হাড়কাঁপানো এই শীতে পঞ্চগড় ও এর আশপাশের উপজেলাগুলোতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ, আর যারা বের হচ্ছেন তারাও ভারী গরম কাপড়ে শরীর মুড়িয়ে নিচ্ছেন। এদিকে, আবহাওয়ার এই বিরূপ আচরণে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে প্রতিদিন ভিড় করছেন শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীরা। চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। যাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর, কেবল তাদেরই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চরম এই শীতে তেঁতুলিয়া ও এর আশপাশের অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র বাতাস ও কম তাপমাত্রায় সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। তাই সকলকে শীতজনিত রোগ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।