সর্বশেষ
Loading breaking news...

বিরতি শেষে হাড় কাঁপানো শীত আবারও দেশজুড়ে ফেরার অশনিসংকেত দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বিরতি শেষে আবারও হাড় কাঁপানো শীতের কবলে পড়তে যাচ্ছে সারা দেশ। টানা দশ দিনের শৈত্যপ্রবাহের পর সাময়িক স্বস্তি মিললেও বৃহস্পতিবার থেকে আবারও তাপমাত্রার পারদ নামার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলসহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে শীতের প্রকোপ বাড়বে। রাজধানীতে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে যা আসন্ন তীব্র শীতের "আগাম সংকেত" হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তেঁতুলিয়ায় তীব্র শীতের দাপট

উত্তরের জেলা পঞ্চগড় যেন একাই শীতের রুদ্রমূর্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আজ বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় যা মাত্র ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উল্লেখ্য যে গত সাত দিন ধরেই এই অঞ্চলেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার এই তাপমাত্রা ছিল ৭.৫ ডিগ্রি এবং সোমবার ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ছিল। তাপমাত্রার এই ওঠানামা উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

জানুয়ারিতে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা

জানুয়ারির মাসব্যাপী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে চলতি মাসে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি শৈত্যপ্রবাহ বেশ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন। মাসের শুরুতে শীতের দাপট থাকলেও গত চার দিনে এর প্রকোপ কিছুটা কমে এসেছিল। তবে আবহাওয়া অফিসের নতুন এই বার্তা জনমনে আবারও "উদ্বেগ ও শঙ্কা" তৈরি করেছে। সাময়িক স্বস্তি শেষে এই নতুন বার্তায় মানুষ এখন পরবর্তী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

কুয়াশায় বাড়বে জনদুর্ভোগ

শীতের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনে বিশেষ করে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘন কুয়াশার দাপটও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে যে কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ার কারণে দিনের বেলাতেও ঠান্ডা বেশি অনুভূত হতে পারে।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় কুয়াশার প্রভাব

বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে নদী অববাহিকা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে যে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরাঞ্চলে হাড় কাঁপানো শীত শুরু হবে। দেশবাসী এখন প্রকৃতির এই রুদ্র রূপ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির ঘরে নামার শঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া অফিস।

আরও পড়ুন