সর্বশেষ
Loading breaking news...

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কলেজগুলোর জন্য বাহাত্তর দিনের ছুটির তালিকা প্রকাশ করল মন্ত্রণালয়

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোর ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী এ বছর মোট ৭২ দিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে যা গত বছরের তুলনায় একদিন বেশি। তালিকায় ধর্মীয় উৎসব এবং জাতীয় দিবস ও দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন বিরতি প্রধান অংশ জুড়ে রয়েছে। এই বর্ধিত ছুটি নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তটি মূলত দীর্ঘমেয়াদী একাডেমিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ ২৬ দিনের বিরতি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সম্প্রতি এই বিস্তারিত ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। বছরের শুরুর দিকে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত টানা ২৬ দিন কলেজ বন্ধ থাকবে। এই দীর্ঘ বিরতিতে পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ একীভূত করা হয়েছে। একই সাথে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে একদিনের সাধারণ ছুটিও এর সাথে যুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই দীর্ঘ অবসরে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে মনোনিবেশ করার সুযোগ পাবে।

উৎসবের দীর্ঘ ছুটি

ঈদুল আজহার ছুটিতেও শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা বিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হয়ে ৫ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিন কলেজগুলো বন্ধ থাকবে। অক্টোবর মাসে শারদীয় দুর্গাপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ১৮ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত টানা ১০ দিন ছুটি মিলবে। এই ধারাবাহিক ছুটিগুলো শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেবে। গ্রামীণ ও শহর উভয় অঞ্চলের কলেজের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বছরের শেষ স্বস্তি

বছরের শেষ লগ্নও শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তিদায়ক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শীতকালীন অবকাশ হিসেবে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রমের চাপের পর এই বিরতি শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি জোগাবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রণালয় এই তালিকার মাধ্যমে পাঠদান ও বিশ্রামের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। নতুন এই ছুটির তালিকাটি শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করার পথ সুগম করেছে।

সংরক্ষিত ছুটির অধিকার

৭২ দিনের সাধারণ তালিকার বাইরেও অতিরিক্ত তিন দিনের "সংরক্ষিত ছুটি" বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই ছুটিগুলো ব্যবহারের পূর্ণ ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নিজস্ব বিচার-বুদ্ধিতে এই ছুটিগুলো প্রয়োগ করতে পারবেন। সামগ্রিকভাবে এই শিক্ষাপঞ্জিটি জাতীয় ঐতিহ্য পালন ও শিক্ষার্থীদের বিশ্রামের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এই ধরনের সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুন