৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ ও পুলিশের ওপর বোমাবাজি, মেহেরপুরে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ছাত্র উদ্ধার
মেহেরপুর জেলায় ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পুলিশের ওপর বোমা হামলার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার অবসান ঘটেছে। অপহৃত কলেজছাত্র মাহিদকে উদ্ধারে জেলা পুলিশ এবং গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপহরণের পর বুধবার গভীর রাতে সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে অক্ষত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়, যা এলাকাবাসীর মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
অপহরণের নাটকীয় মুহূর্ত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাহিদ তার দুই বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কোমরপুর এলাকার একটি ইটভাটার কাছে পৌঁছালে একদল দুষ্কৃতকারী তাদের গতিরোধ করে। সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তিনজনকে পাশের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যায় এবং মাহিদের বন্ধুদের ছেড়ে দিলেও তাকে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপরই পরিবারের কাছে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়, যা পুরো পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দেয়।
ফাঁদ পাতল পুলিশ
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়ের সরাসরি নির্দেশনায় মাঠে নামে ডিবি ও মুজিবনগর থানার একাধিক চৌকস দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার টোপ দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। বুধবার গভীর রাতে টেংরামারী গ্রামের একটি নির্জন মাঠে টাকা হস্তান্তরের সময় নির্ধারণ করে পুলিশ সাদা পোশাকে সেখানে ওৎ পেতে থাকে।
বোমা হামলা ও উদ্ধার
পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ চারপাশ থেকে এলাকাটি ঘিরে ফেলে অপরাধীদের ধরার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু অন্ধকারের মধ্যে আলোর ঝলকানিতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যায় অপহরণকারীরা। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ধোঁয়ার আড়ালে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা মাহিদকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখেই অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় অভিযানের সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করে জানান, মাহিদকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং সে বর্তমানে পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে রয়েছে। তিনি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলা এবং অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।