কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার নতুন যুগে ১৩ জন পথিকৃতের ঐতিহাসিক পদযাত্রা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) তার শিক্ষা ও গবেষণার ইতিহাসে এক অনন্য এবং ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এই প্রথমবারের মতো উচ্চতর গবেষণার সর্বোচ্চ স্তর পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯১তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মোট ১৩ জন মেধাবী গবেষককে চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
বিভাগওয়ারী গবেষক নির্বাচনের পরিসংখ্যান
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে মোট ২৪ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে অত্যন্ত কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক তালিকায় এই ১৩ জনকে স্থান দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত গবেষকদের মধ্যে ইংরেজি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ চারজন এবং বাংলা বিভাগ থেকে তিনজন ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া অর্থনীতি এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ থেকে দুজন করে এবং রসায়ন ও ফার্মেসি বিভাগ থেকে একজন করে গবেষক নির্বাচিত হয়েছেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হক গণমাধ্যমের কাছে এই ঐতিহাসিক মনোনয়ন ও নির্বাচনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। এই শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মূল ভিত্তিটি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এই যাত্রার পটভূমি
গবেষণার এই স্বর্ণদয়ার খোলার মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল গত বছরের ৮৯তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি স্বতন্ত্র বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। "এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কেবল একটি ভর্তি প্রক্রিয়া নয় বরং উচ্চতর শিক্ষা বিস্তারে একটি গৌরবময় অধ্যায়ের শুভ সূচনা।" সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা মনে করেন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কুবি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার কাতারে নিজের নাম লেখানোর পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
প্রশাসনের উচ্চতর স্বপ্ন ও লক্ষ্য
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী এই বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানোন্নয়নে তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচিত গবেষকদের শিক্ষা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নিয়মিত এই প্রোগ্রামটি চালু রাখার পাশাপাশি গবেষণার পরিধি ক্রমান্বয়ে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখন থেকে কেবল স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উচ্চতর গবেষণার এই কেন্দ্রবিন্দু ভবিষ্যতে দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষক তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করবে বলে প্রশাসনের প্রত্যাশা।
সংশ্লিষ্টদের মাঝে খুশির জোয়ার
এই ঐতিহাসিক অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা এবং খুশির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক শিক্ষকই মন্তব্য করেছেন যে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু হওয়া একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণতা পাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত। এই ১৩ জন গবেষক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম পথিকৃৎ হিসেবে গবেষণার আলো জ্বালিয়ে রাখবেন বলে সবাই বিশ্বাস করেন। এটি কেবল কুবির সম্মান বাড়াবে না বরং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই নির্বাচিত এই গবেষকদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ও গবেষণা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।