কঙ্গোতে খনি ধসে দুই শতাধিক মৃত্যু, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রণে ব্যাহত উদ্ধারকাজ
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) উত্তর কিভু প্রদেশে এক ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রুবায়া এলাকায় অবস্থিত একটি খনি ধসে পড়ার ঘটনায় কমপক্ষে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো এবং সঠিক তথ্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাতের অন্ধকারে বিপর্যয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বিদ্রোহী-সমর্থিত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে খনি শ্রমিক ছাড়াও স্থানীয় বাজারের নারী ও শিশুরা চাপা পড়েছেন। এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো সম্ভব হয়েছে, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উদ্ধারকাজে বিদ্রোহী বাধা
এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন এই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় উদ্ধার অভিযান যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। বিদ্রোহী নিযুক্ত গভর্নর এরাস্টন বাহাতি মুসাঙ্গা হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারলেও মৃতের সংখ্যা যে কয়েকশ ছাড়াতে পারে, সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। বহির্বিশ্বের সাহায্য পৌঁছাতে না পারায় স্থানীয় সীমিত সামর্থ্য দিয়েই চলছে উদ্ধারের চেষ্টা।
বৃষ্টির প্রভাবে দুর্ঘটনা
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণের ফলে খনি এলাকার মাটি অত্যন্ত নরম ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। দুর্বল অবকাঠামো এবং প্রকৃতির বিরূপ আচরণই এই ধসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর আগেও কঙ্গোর খনিগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব
খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ কঙ্গোতে অবৈধ ও অনিরাপদ খনির ছড়াছড়ি। প্রায়শই সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু বিদ্রোহী সংঘাত ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। রুবায়ার এই ঘটনা আবারও সেই ভয়াবহ বাস্তবতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার তাগিদে চরম ঝুঁকির মুখে থাকে।