সর্বশেষ
Loading breaking news...

৮ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ: প্রমাণ প্রকাশের চাপে মুখ্য সচিব

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আটজন উপদেষ্টা ও দুজন সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, তা নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। গত বছর যখন তিনি এই অভিযোগ তোলেন, তখন তিনি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব। বর্তমানে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার পর তাঁর কাছে থাকা সেই তথাকথিত ‘অকাট্য প্রমাণ’ জনসমক্ষে আনা এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

পিয়ন-এর অ্যাকাউন্টে ৪০০ কোটি টাকা

গত বছরের ৮ আগস্ট রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে আবদুস সাত্তার দাবি করেছিলেন, তাঁর কাছে আট উপদেষ্টার দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি সে সময় বলেছিলেন, জনৈক উপদেষ্টার পিয়নের ব্যাংক হিসাবে ৪০০ কোটি এবং অন্য এক উপদেষ্টার এপিএসের অ্যাকাউন্টে ২০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের দুর্নীতি গত ১৫ বছরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন। স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তদের দক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রমাণ ছাড়া আমি কোনো কথা বলি না’।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, আবদুস সাত্তার এখন যেহেতু প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, তাই তাঁর দায়িত্ব আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘উনার উচিত এই মুহূর্তেই তথ্যপ্রমাণগুলো দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরবরাহ করা। প্রকাশ্যে আনা সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।’ উল্লেখ্য, এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

প্রশাসনিক উচ্চাসনে সাত্তার: এবার কি শুরু হবে বিচার?

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা এ বি এম আবদুস সাত্তারকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁকে ভূতপূর্ব সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, যে আট উপদেষ্টার দুর্নীতির নথি তাঁর কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁদের নাম কি প্রকাশ করা হবে? দেশের সচেতন মহল এখন দেখার অপেক্ষায় আছে, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসে তিনি সেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন কি না। তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন