মমতাজের ১১ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ আদালতের
দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা সংগীতশিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের मुश्किलें আরও বেড়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আদালত তার প্রায় ১১ কোটি ৮১ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। এই রায়ে মমতাজের 'সাম্রাজ্যে' বড় ধরনের আঘাত হেনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জব্দ তালিকায় যা আছে
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মমতাজের বিলাসবহুল জীবনযাপনের একাধিক নিদর্শন এখন দুদকের নজরদারিতে। জব্দকৃত সম্পদের তালিকায় রয়েছে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস-এর একটি পাঁচতলা ভবন, পূর্বাচলের ৯ কাঠা জমির একটি প্লট এবং মানিকগঞ্জ সদরের একটি চারতলা বাড়ি। এছাড়াও সিংগাইর উপজেলার দুটি দোতলা বাসভবন এবং সিংগাইরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা প্রায় ৪২০ শতাংশ জমিও ক্রোকের আওতায় আনা হয়েছে। তবে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া মানিকগঞ্জের একটি দোতলা বাড়ি আপাতত এই আদেশের বাইরে রাখা হয়েছে।
দুদকের কঠোর পদক্ষেপ
আদালতে দুদকের পক্ষে আবেদনটি উপস্থাপন করেন উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মমতাজের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। এই অবস্থায় তিনি বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেউ যদি সম্পদগুলো হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেন, তবে তদন্ত প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই সম্পত্তিগুলো জব্দ করা অপরিহার্য বলে জানায় দুদক।
মমতাজের চলমান মামলা
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ মে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে আছেন মমতাজ বেগম। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি এই সম্পদ জব্দের নির্দেশ এলো। এই পদক্ষেপ তার আইনি লড়াইয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
দেশের একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ দুর্নীতি দমনে সরকারের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন। এই আদেশ সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন, এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ কোনোভাবেই রক্ষা পাবে না। আগামী দিনগুলোতে তার অন্যান্য মামলার পরিণতি কী হয়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।