সর্বশেষ
Loading breaking news...

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বকেয়া ভাড়া ও আইনি নোটিশে ক্যাম্পাস সংকট

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

চাঁদপুর সদর উপজেলার খলিশাডুলীতে অবস্থিত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসটি এখন গভীর সংকটে নিমজ্জিত। ভবন মালিক প্রবাসী জাকির হোসেনের দাবি অনুযায়ী সাবেক উপাচার্যের সময় করা চুক্তিনামার মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ৪,৫০০ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনের দুটি আলাদা চুক্তির একটি গত ডিসেম্বরে এবং অন্যটি নভেম্বরেই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অন্তত তিন মাসের বিপুল অঙ্কের ভাড়া বকেয়া পড়েছে যা নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। মালিক পক্ষ বারবার মৌখিকভাবে যোগাযোগ করলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে।

প্রশাসনের চরম উদাসীনতা

জাকির হোসেন অভিযোগ করেছেন যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা ভবন খালি করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে প্রতিবারই তাকে আশ্বাসের আড়ালে কালক্ষেপণ এবং তহবিলের অভাবসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. পেয়ার আহমেদ এবং রেজিস্ট্রার মামুনকে বিষয়টি জানানোর পরও তারা কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেননি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো চুক্তিনামা অনুযায়ী ভবন ছাড়ার তিন মাস আগে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও মালিকের ধৈর্য এখন শেষ পর্যায়ে। বাধ্য হয়েই তিনি এখন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং পর পর দু'দফা উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

বিল ও নির্মাণ জট

পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে যখন জানা যায় যে মালিক নিজ উদ্যোগে ভবনের ওপর অতিরিক্ত ফ্লোর নির্মাণ করেছিলেন। সাবেক ভিসির মৌখিক অনুরোধে এই উন্নয়নমূলক কাজ করা হলেও এখন সেই কাজের বিল আদায়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভবনের উপরের তলার নির্মাণ কাজ ছাদ ছাড়াই পড়ে আছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় লিফট স্থাপনের প্রস্তাবও উপেক্ষিত হয়েছে। মালিক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি আর এই ভবন ভাড়া দিতে আগ্রহী নন এবং কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে এতদিন চুপ থাকলেও এখন তিনি পাওনা আদায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মামুন সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। পরবর্তীতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. পেয়ার আহমেদ স্বীকার করেছেন যে গত সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের সভায় এই সংকটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বকেয়া ভাড়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান যে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে মালিকের দাবিকৃত সম্পূর্ণ হিসাবের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দ্বিমত রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ক্যাম্পাসের এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি শিক্ষা অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। "আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই যাতে আমাদের পড়ালেখায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে," এমনটাই জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এখন সবার নজর আগামী সপ্তাহের সিন্ডিকেট সভার দিকে যেখান থেকে চূড়ান্ত সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে। প্রশাসন ও মালিক পক্ষের এই টানাপোড়েন নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপও কামনা করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন