সর্বশেষ
Loading breaking news...

চবি শিক্ষক নিয়োগে উপ-উপাচার্যের কন্যার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ড. মির্জা গালিব

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে ফের বিতর্কের ঝড় উঠেছে, যেখানে অভিযোগের তীর খোদ প্রশাসনের দিকে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রভাবশালী উপ-উপাচার্যের কন্যাকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যোগ্যতর প্রার্থীদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এবার সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার নৈতিকতা ও মানদণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন।

মেধাতালিকার আড়ালে ক্ষমতার ছায়া

ড. মির্জা গালিব তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক বিশদ স্ট্যাটাসে এই নিয়োগের পেছনের ‘অংক’ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়োগপ্রাপ্ত ওই প্রার্থী স্নাতক পরীক্ষায় যুগ্মভাবে অষ্টম এবং স্নাতকোত্তরে দ্বিতীয় স্থান (সিরিয়ালে তৃতীয়) অধিকার করেছিলেন। অথচ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সমান বা অপেক্ষাকৃত ভালো ফলাফলধারী একাধিক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও এই নিয়োগ কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক। ড. গালিবের মতে, বাবার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি প্রভাবিত করা হয়েছে কি না, তা স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের স্বার্থেই যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি এই ঘটনাকে মেধার অবমূল্যায়ন হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নম্বরপত্র প্রকাশের জোরালো দাবি

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ড. গালিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ নম্বরপত্র জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা এবং প্রেজেন্টেশনের সম্মিলিত নম্বরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও তা গোপন রাখা হয়েছে। ড. গালিব জোর দিয়ে বলেন, “এই নম্বর তালিকা দেখলে আমরা সহজেই ধারণা করতে পারব নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ ছিল।” তাঁর মতে, লুকোচুরি না করে প্রশাসনের উচিত সব প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ করে নিজেদের স্বচ্ছতা প্রমাণ করা এবং সন্দেহের অবকাশ দূর করা।

জনপরিসরে আলোচনা ও বিতর্ক

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহল থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিক সমাজ পর্যন্ত ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। ড. গালিব মনে করেন, এই নিয়োগ কেন্দ্র করে পাবলিক পরিসরে যে আলাপ-আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে, সেটিই উন্নতির প্রাথমিক লক্ষণ। তিনি উল্লেখ করেন, মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হলে কোনো প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না এবং জাতির উন্নতি ব্যাহত হয়। এই ধরনের খোলামেলা বিতর্ক ভবিষ্যতে নিয়োগ বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ করতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

মেরিট-ভিত্তিক ভবিষ্যতের আহ্বান

বিতর্কের মাঝেও শিক্ষাবিদ ড. গালিব আশার আলো দেখছেন এবং একটি মেধাভিত্তিক শিক্ষাঙ্গন গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং খোলামেলা আলোচনা চালিয়ে যায়, তবেই ক্রমান্বয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতির বদলে যোগ্যতাই হোক একমাত্র মাপকাঠি—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সবাই। মেধার কদর না করে উন্নতির আর কোনো পথ খোলা নেই বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে সতর্ক করে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন