সর্বশেষ
Loading breaking news...

আমদানিতে ১৯২% উল্লম্ফন, শুল্ক কমানো সত্ত্বেও খেজুরের দাম আকাশছোঁয়া

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
রমজান সমাগত হলেই দেশের বাজারে যেন এক অলিখিত নিয়মে বাড়তে শুরু করে খেজুরের দাম। অথচ এবার খাতা-কলমের হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। গত এক বছরের ব্যবধানে দেশে খেজুর আমদানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৯২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, ইফতারের এই প্রধান অনুষঙ্গটিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় রাখতে সরকার শুল্ক কমালেও তার সুফল মিলছে না খুচরা বাজারে। আমদানির রেকর্ড আর শুল্ক ছাড়ের সুবিধার মাঝেও খেজুরের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় ভোক্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
 

পরিসংখ্যানের তথ্য ও আমদানির মহোৎসব

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যেখানে খেজুর আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন, সেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩০১ মেট্রিক টনে। আমদানির এই হার আগের বছরের তুলনায় অবিশ্বাস্য ১৯২ শতাংশ বেশি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের ১ নভেম্বর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রায় ৫০ হাজার টন খেজুর এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কয়েক হাজার টন বেশি।

সরকারি হিসাবে রোজার মোট চাহিদার চেয়েও ১৫ হাজার টন অতিরিক্ত খেজুর এখন দেশে মজুত রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সরবরাহ সত্ত্বেও, বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন যে খুচরা পর্যায়ে দামের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না, যা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।
 

অচলাবস্থার নেপথ্যে কারণ ও বন্দরের সংকট

কেন এই বিপুল আমদানির পরও কমছে না দাম? আমদানিকারক ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক শ্রমিক ধর্মঘট ও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা। রাজধানীর ফল আমদানিকারকদের দাবি, বন্দরের অস্থিরতার কারণে সময়মতো খেজুর খালাস করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে বাজারে প্রায় ১৫ দিনের একটি কৃত্রিম সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া শুল্ক ছাড়ের প্রজ্ঞাপন বিলম্বে কার্যকর হওয়ায় অনেক আমদানিকারককে আগের উচ্চ শুল্ক হারেই পণ্য ছাড় করতে হয়েছে। এসব যান্ত্রিক ও কৌশলগত কারণেই মূলত খুচরা বাজারে দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না।
 

বাজারের রূঢ় বাস্তবতা ও সাধারণের হাহাকার

সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি পরিসংখ্যানের সাথে বাস্তব দামের বিস্তর ফারাক। বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি দাবাস ও বরই খেজুর ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনছেন। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষ ইফতারের টেবিলে এই সুন্নতি ফলটি রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। আমদানির জোয়ার আর শুল্কের ছাড়—সবই যেন শেষ পর্যন্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে চলে যাচ্ছে, আর সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপছে বাড়তি খরচের বোঝা।

আরও পড়ুন