সর্বশেষ
Loading breaking news...

চাঁদাবাজির বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকট: ডিসিসিআই সভাপতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
দেশের বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ব্যবসা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন বা চাঁদাবাজি এখন ব্যবসায়ীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও চাঁদাবাজি কমেনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা আগের চেয়েও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।

বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে চাঁদাবাজির নতুন মহোৎসব

ব্যবসায়ী নেতা তাসকিন আহমেদ আক্ষেপের সাথে জানান, পুলিশ, সিটি করপোরেশন এবং আয়কর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্তরে নিয়মিত অর্থ দিতে গিয়ে ব্যবসার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পর থেকে ব্যবসায়ীদের যে হারে চাঁদা দিতে হচ্ছে, তা বিগত সরকারের আমলের তুলনায় কোনো অংশেই কম নয়। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের সময়েও সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেনি। এই লাগামহীন চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে নতুন বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, যা এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ও ঋণের অগ্নিমূল্য

দেশের আর্থিক খাতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে, যার হার মাত্র ৬.৪৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা কমিয়ে আনার ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কৃত্রিমভাবে বেড়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। ঋণের সুদের হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কার্যকরী মূলধনের সংকটে পড়ছেন। এই সংকট কাটাতে তিনি দ্রুত নীতি সুদহার কমানোর দাবি জানান।

উত্তরণের পথ: আমূল সংস্কারের কঠোর দাওয়াই

অর্থনীতিকে সচল করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তাসকিন আহমেদ। তিনি রাজস্ব বোর্ডকে নীতি নির্ধারণী কাজ থেকে পৃথক করা এবং দ্রুত স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব দেন। তার মতে, কার্যকর উদ্যোগ নিলে আগামী আট মাসের মধ্যেই এই অটোমেশন সম্পন্ন করা সম্ভব। এছাড়া কর কাঠামো সহজ করতে টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ সহজ করতে বিডার ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তিনি।

বেকারত্ব মোকাবিলা ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা

দেশে বর্তমানে ২৬ লাখ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন না হলে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই সরকারের উচিত অবিলম্বে এসব অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন