সর্বশেষ
Loading breaking news...

কুষ্টিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ বাড়ি ভাঙচুর, এলাকা রণক্ষেত্র

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বড়িয়া-ভাদালিয়াপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের সামাজিক বিরোধ শেষ পর্যন্ত রূপ নিল এক ভয়াবহ সহিংসতায়। শনিবার রাতে দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে রক্তাক্ত হলেন অন্তত পাঁচজন। তবে কেবল রক্তপাতই নয়, উন্মত্ত জনতার তান্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ২০টিরও বেশি বসতবাড়ি, যেখানে চলেছে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ।

ক্ষমতার লড়াইয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত সাজানো ঘরবাড়ি

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বটতৈল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার তথা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান এবং সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুলের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুরনো বিবাদ ছিল। শনিবার রাত ৮টার দিকে সেই পুরনো ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে। দুই পক্ষের দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা। হামলায় ২০টিরও বেশি বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মূল্যবান মালামাল লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মারাত্মক আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে রণক্ষেত্রে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাব

সংঘর্ষের খবর পেয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশের পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের সদস্যদের। যৌথ বাহিনীর কঠোর অভিযানে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, মূলত সামাজিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য রক্ষার লড়াই থেকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত তান্ডবের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এই ঘটনা কুষ্টিয়ার গ্রামীণ জনপদে আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতির এক কদর্য রূপ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করেন সচেতন মহল।

আরও পড়ুন