সর্বশেষ
Loading breaking news...

আইআরজিসি কমান্ডার পাকপুরের মৃত্যু: তেহরান-জেরুজালেমের সংঘাতের পারদ কি চরম শিখরে?

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরের মৃত্যু সংবাদ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও ভয়াবহ সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে বহুদিনের চাপা উত্তেজনা এই মুহূর্তে এক চরম পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। পাকপুর ছিলেন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সমসাময়িক ব্যক্তিত্ব, যিনি ইরানের সামরিক ইতিহাসের প্রতিটি বাঁক ও উত্থান-পতনকে কাছ থেকে দেখেছেন।

তাঁর কর্মজীবনের বিস্তৃতি ছিল সুদূরপ্রসারী। কুর্দি বিদ্রোহ দমনের মতো অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ থেকে শুরু করে সুদীর্ঘ ইরান-ইরাক যুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে আইআরজিসির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছিল। তিনি আর্মি অপারেশনস কমান্ড, ৮ম নাজাফ ডিভিশন এবং ৩১তম আশুরা ডিভিশনের মতো প্রতিরক্ষা কাঠামোর অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে, ইরানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর কৌশলগত অবদান ছিল অনস্বীকার্য ও অপরিহার্য।

সামরিক সক্ষমতার সেই কারিগর

পাকপুর তাঁর কর্মজীবনে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বদা আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা ও জোর দিতেন। ইরানের সামরিক শক্তির প্রদর্শন, বিশেষ করে ‘হামাস’-এর মাধ্যমে ড্রোন প্রযুক্তির সফল ব্যবহারে তিনি অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর মাত্র এক মাস আগেই তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং তাদের আঙুল ট্রিগারের ওপর রাখা আছে।

তাঁর কঠোর বার্তা ছিল—প্রতিপক্ষের যেকোনো ভুল হিসাবনিকাশ চরম মূল্য দাবি করবে। এমন একজন অভিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারের আকস্মিক প্রয়াণ ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও সামরিক মনোবলের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকপুরের মতো একজন কৌশলগত মাপকাঠির নেতার ক্ষতি কেবল সামরিক শক্তির হ্রাস নয়, বরং এটি তেহরানের জন্য এক গুরুতর এবং স্পষ্ট সতর্কবার্তা বহন করছে। যদিও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভাগ্য।

আরও পড়ুন