আলোচিত সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত আজ
আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল এই বহুল প্রতীক্ষিত আদেশ দেবেন। গত ৮ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পর সারাদেশ এই আদেশের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে। এটি দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভয়াবহ তিন অভিযোগ
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গাজীপুরে তিনজনকে হত্যা, বরগুনার পাথরঘাটায় ৫০ জনকে হত্যা এবং সুন্দরবনে বনদস্যু দমনের আড়ালে "বন্দুকযুদ্ধের নাটক" সাজিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো। প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন যে, এই তিনটি অভিযোগ ছাড়াও প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগেও তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগ তার সামরিক কর্মজীবনের অন্ধকার দিক তুলে ধরে।
ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র
আদালতে প্রসিকিউশন জোরালোভাবে দাবি করে, ২০০৯ সালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) যোগদানের পর থেকেই জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) পদে থাকাকালীন অসংখ্য গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তাঁর সরাসরি নির্দেশে বা জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে। এই সময়কাল তার কর্মজীবনের বিতর্কিত অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নজিরবিহীন পদোন্নতি ও সাক্ষ্য
প্রসিকিউশন আরও দাবি করে যে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই জিয়াউল আহসানের মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে "এক নজিরবিহীন ঘটনা"। এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হলো সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্য। জানা গেছে, তিনি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন, যা মামলার অগ্রগতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া তাঁর জবানবন্দির অংশবিশেষ ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিচারের পথে এক ধাপ
আজকের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া এক ধাপ এগিয়ে যাবে। এই মামলার রায় একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচারের পথ সুগম করবে, তেমনি দেশের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের সংস্কৃতি রোধে এক দৃঢ় বার্তা দেবে। সারা দেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একটি স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়ার সমাপ্তির জন্য।