সর্বশেষ
Loading breaking news...

মাঠের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব, মোবাইলেই বন্দি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম!

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

খেলার মাঠের তীব্র সংকটের কারণে আজকের শিশুরা খেলাধুলা থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জাতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এমন আশঙ্কার কথাই শোনালেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই মাঠ

শিক্ষার পাশাপাশি একটি শিশুর সুস্থ ও আনন্দময় জীবনের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এটি কেবল শারীরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং মানসিক দৃঢ়তা ও সামাজিকীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা অত্যন্ত করুণ। অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই আজ খেলার মাঠ নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ, কোচিং আর যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের দুরন্ত শৈশব।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সময়ে স্কুল শেষে মাঠেই কাটত বিকেল। ক্রিকেট, ফুটবল বা কাবাডি খেলেও পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়িনি। বরং যারা খেলাবিমুখ ছিল, তারাই পিছিয়ে পড়েছে।’

মোবাইলের স্ক্রিনে বন্দি শৈশব

তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে শহরাঞ্চলে খেলার মাঠ আশঙ্কাজনক হারে সংকুচিত হয়ে আসছে। এর ফলে শিশুরা মাঠের বদলে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এই আসক্তি কেবল শিশুদের নয়, বড়দের জন্যও ক্ষতিকর।

সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে মাত্র কয়েকটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি কলেজ পর্যায়েও শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পরিবার থেকেই এই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।

আরও পড়ুন