সর্বশেষ
Loading breaking news...

বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াই ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরীন সুলতানা। বৃহস্পতিবার নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালি ইউনিয়নে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন যে দেশনেত্রীর আপসহীন নেতৃত্বই এদেশের মানুষের জন্য সাহসের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর মতো প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ইতিহাসে বিরল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবিরাম প্রতিরোধ

অ্যাডভোকেট শিরীন সুলতানা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বেগম খালেদা জিয়া আজীবন আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর আপসহীন ভূমিকা আগামী প্রজন্মের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাঁর অসামান্য অবদান এদেশের ইতিহাসে "স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে" বলে তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন। শিরীন সুলতানা বলেন যে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।

কারাবন্দি জীবনের দুঃসহ স্মৃতি

খালেদা জিয়ার কারাবাসের সময়কালীন অমানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে শিরীন সুলতানা উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান যে দেশনেত্রী সুস্থ অবস্থায় কারাগারে গেলেও পরবর্তীতে তাঁকে হুইলচেয়ারে করে মুক্তি পেতে হয়েছে। কারাগারে থাকাকালীন তাঁর যথাযথ চিকিৎসার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পেলেও ততক্ষণে তাঁর স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল।

আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন

বিএনপির আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে শিরীন সুলতানা বলেন যে দল ক্ষমতায় এলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে দেশ গঠন করা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে দেশের উন্নয়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও আধুনিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছেন। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন ও গণমানুষের দাবি

আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য তিনি আলোকবালি ইউনিয়নের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে বিএনপি জয়ী হলে তারেক রহমানকে সাথে নিয়ে জাতীয় সংসদে মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। আলোকবালি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তৃণমূল নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুন