বায়ুদূষণে বিশ্বের দ্বিতীয় ঢাকা শীর্ষে প্রতিবেশী দিল্লি
বৃষ্টির কল্যাণে কিছুদিন স্বস্তি মিললেও আবারও দূষণের চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজধানী। জলবায়ু পরিবর্তন ও নানাবিধ কারণে বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর বাতাস দিন দিন বিষাক্ত হয়ে উঠছে, আর এই তালিকায় ওপরের সারিতেই রয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তথ্য নগরবাসীর জন্য রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার বাতাসকে আবারও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দিল্লির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ঢাকা
আইকিউএয়ার-এর লাইভ মনিটরিং ডেটা অনুযায়ী, বায়ুদূষণে বিশ্বের সব শহরের মধ্যে শীর্ষে ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি। শহরটির স্কোর ছিল ২৯৯, যা নাগরিকদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঠিক এর পরেই, ২৬০ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। অর্থাৎ, দিল্লির পরেই ঢাকার অবস্থান। এই তালিকায় ২১৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের চেংডু। বিশ্বের এই প্রধান শহরগুলোর বাতাস এখন নাগরিকদের শ্বাসপ্রশ্বাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।
বাতাসের মানে লাল সংকেত
আইকিউএয়ার-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমানের স্কোর যখন ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকে, তখন তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। বর্তমানে ঢাকা এই ক্যাটাগরিতেই অবস্থান করছে। স্কোর ৩০১ ছাড়ালে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং অসুস্থ রোগীদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। সাধারণত দূষণের পাঁচটি উপাদান—বস্তুকণা (পিএম ১০ ও পিএম ২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ওজোনের ওপর ভিত্তি করে এই স্কোর নির্ধারণ করা হয়।
নীরব ঘাতক যখন বাতাস
বায়ুদূষণ কেবল অস্বস্তির কারণ নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যান বলছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এই দূষিত বাতাস স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) এবং শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সুস্থভাবে বাঁচার জন্য নির্মল বাতাসের প্রয়োজন হলেও, ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য তা এখন এক প্রকার বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
ঢাকার এই ধারাবাহিক বায়ুদূষণ পরিবেশগত জরুরি অবস্থা এবং টেকসই নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। শহরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এখনই জরুরি এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। ক্রমবর্ধমান এই সংকট মোকাবিলায় proactive পদক্ষেপই শহরটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।