সর্বশেষ
Loading breaking news...

বিপজ্জনক মাত্রায় বায়ুদূষণ এবং ঢাকার বাতাস এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বিষাক্ত

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

সাময়িক উন্নতির পর আবারও দূষণের ভয়াল থাবায় পড়েছে রাজধানী ঢাকা। সোমবার সকালে এক অস্বস্তিকর ও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন বাস্তবতা নিয়ে দিন শুরু করেছে নগরবাসী। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ২৬৫ স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। বায়ুমানের এই সূচককে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।

শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে কারা

দূষণের এই ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায় শুধু ঢাকা একা নয়, বরং পাল্লা দিচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য মেগাসিটিগুলোও। আইকিউএয়ারের তালিকায় ৩৫৮-এর মতো বিশাল স্কোর নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে মিসরের রাজধানী কায়রো। ঢাকার ঠিক পরেই ২৩৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী শহর দিল্লি। এই তালিকায় যথাক্রমে চীনের চেংদু এবং চংকিং চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়া জুড়ে বায়ুদূষণ সংকটের গভীরতাকে তুলে ধরে।

বিপদের ঘণ্টা কখন বাজে

বায়ুমান সূচক বা একিউআই (AQI) বাতাসের গুণগত মানের একটি আন্তর্জাতিক ও নির্ভরযোগ্য পরিমাপক। বাতাসের মান যখন ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকে, তখন তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে বাতাসের বিষাক্ত কণা মানবদেহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক এই বিপজ্জনক সীমানায় অবস্থান করছে, যা নগরজীবনের জন্য এক অশনি সংকেত।

কারা আছেন সবচেয়ে ঝুঁকিতে

এমন পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে থাকার কঠোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বাইরের এই বাতাস মরণফাঁদ হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, দূষণের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বাড়তে শুরু করেছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরের কার্যক্রম সীমিত করার "কোনো বিকল্প নেই" বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

সতর্কতা ও আগামীর ভাবনা

উল্লেখযোগ্য যে, স্কোর ৩০১ ছাড়ালেই তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা শহরের সকল বাসিন্দার জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নাগরিক জীবনের এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও তার সঠিক বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। আপাতত মাস্ক ব্যবহার ও ব্যক্তিগত সচেতনতাই নগরবাসীর একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন