রাজধানী ঢাকা আবারও বিশ্বের বায়ু দূষণের ভয়াবহ তালিকায় নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে ঢাকা যেন বিষাক্ত বাতাসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার হিসাবে ঢাকার বাতাসের গুণমান 'খুব অস্বাস্থ্যকর' পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি নগর কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব দূষণ তালিকায় ঢাকার অবস্থান
আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ২৬০ একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এই স্কোর নির্দেশ করে যে, মেগাসিটির বাতাসে চরম মাত্রায় দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে বাতাসের মানের এই ভয়াবহ চিত্রে এশিয়ার একাধিক শহর শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এটি প্রমাণ করে যে, বায়ু দূষণ এখন বৈশ্বিক একটি সংকট।
প্রতিবেশী মহানগরীর সাথে দূষণের চিত্র
তালিকায় ঢাকার চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে ভারতের কলকাতা, যা ২৯২ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ঢাকার ঠিক পরেই, অর্থাৎ চতুর্থ স্থানে রয়েছে মিশরের কায়রো, যার স্কোর ২০২। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, বৈশ্বিক দূষণের মানচিত্রে ঢাকা এক বিপদসংকেত দিচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মহানগরীগুলোও মারাত্মকভাবে দূষণের শিকার। আঞ্চলিক সহযোগিতা এই সমস্যা সমাধানে জরুরি।
স্বাস্থ্যের জন্য সতর্কতা
বায়ুর মানের এই সূচকগুলি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণত শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ভালো হিসেবে বিবেচিত হলেও, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশু, বয়স্ক নাগরিক এবং অসুস্থ রোগীদের জন্য বাইরের কার্যকলাপ সীমিত রাখার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সকালে এবং সন্ধ্যায় যখন দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে, তখন সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
একিউআই মানদণ্ড কী বলছে
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যখন একিউআই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকে, তখন বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। কিন্তু ৩০০-এর কাছাকাছি স্কোর মানে হলো নগরবাসী এক নীরব স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে দিনযাপন করছেন। এর চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয় যখন স্কোর ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকে, যা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য হয় এবং তা নগরবাসীর জীবনে গুরুতর স্বাস্থ্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। অদৃশ্য এই শত্রুর কারণে নগরজীবন ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।