সর্বশেষ
Loading breaking news...

দূষণ-মানচিত্রে শীর্ষে ঢাকা: বিষাক্ত বাতাসে রুদ্ধ হচ্ছে মেগাসিটির নিঃশ্বাস

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

বিশ্বজুড়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ। এই বৈশ্বিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণের কবলে থাকা এই মেগাসিটি বিশ্বের ১২১টি দেশের মধ্যে দূষণের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে, যা নগরবাসীর জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম উদ্বেগের বার্তা দিচ্ছে। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনে এই বিষাক্ত বাতাস নাগরিকদের ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

বিশ্বতালিকায় শীর্ষস্থানের গ্লানি

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৬ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের প্রকাশিত সূচকে দেখা যায়, ২৬৭ স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে। এই গাণিতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঢাকার বাতাস বর্তমানে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকার ঠিক পরেই ২২৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। প্রতিবেশী দেশ ভারতের চিত্রও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়; ২২১ স্কোর নিয়ে মুম্বাই তৃতীয়, ২০২ স্কোর নিয়ে দিল্লি চতুর্থ এবং ১৯৭ স্কোর নিয়ে কলকাতা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

আইকিউএয়ারের এই তালিকা প্রকাশ করার পর থেকেই পরিবেশবিদ এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার বাতাসের এই মান নাগরিকদের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অনুপযুক্ত, এবং এটি অবিলম্বে সমাধানের দাবি রাখে। মুম্বাই ও দিল্লির বাতাসও ঢাকার মতোই ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশগত বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়।

সূচকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপদ

আইকিউএয়ারের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুর গুণমান সূচক যখন শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে, তখন তাকে স্বাস্থ্যকর বা ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ ধরা হলেও ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বায়ুর মান ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বায়ুমান সূচক ৩০১ অতিক্রম করলে সেই পরিস্থিতিকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার বাতাসের মান যে ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে, তা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির এক অশনিসংকেত হিসেবেই দেখছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে এবং বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে। ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই মেগাসিটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন