ঢাকায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ডিএমপির ক্র্যাকডাউন: একদিনে ১০৬১ মামলা
রাজধানী ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নগরীর বিভিন্ন অংশে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে একযোগে ১০৬১টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা শহরের যানজট নিরসনে পুলিশের চলমান প্রচেষ্টারই অংশ।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অভিযানে বিভিন্ন জোনে যানবাহনের প্রকারভেদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৮৪টি মামলা হয়েছে। সেখানে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি এবং মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনকে আইনের আওতায় আনা হয়। এছাড়া গুলশান বিভাগে ১৭৫টি, ওয়ারিতে ১৪৫টি, মিরপুরে ১১২টি, রমনায় ১০৯টি, মতিঝিলে ৮৫টি, তেজগাঁওয়ে ৮৩টি এবং লালবাগ বিভাগে ৬৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডাম্পিং ও রেকার অভিযান
শুধুমাত্র মামলা দিয়েই পুলিশ ক্ষান্ত হয়নি; শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শত শত যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় ট্রাফিক বিভাগ মোট ৪৯৭টি গাড়ি ডাম্পিং বা জব্দ করেছে এবং আরও ২৩৪টি গাড়ি রেকার করেছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের প্রতি কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার অংশ হিসেবেই এই সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক এবং বাণিজ্যিক গাড়ির চালকদের মধ্যে আইন অমান্যের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। মামলার পরিসংখ্যানেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। উল্টোপথে গাড়ি চালানো, হেলমেট না পরা এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর অপরাধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ডিএমপি নিশ্চিত করেছে যে, ঢাকা মহানগরীর সড়কে স্থায়ী ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনসাধারণের মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতি তৈরি করাই এই তৎপরতার মূল লক্ষ্য। নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচল সহজ ও নিরাপদ করতে ট্রাফিক বিভাগের এই ধারাবাহিক তৎপরতা আগামী দিনগুলোতেও চলমান থাকবে।