ইরানের ইন্টারনেট সচল করতে ইলন মাস্কের দ্বারস্থ হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে টানা পাঁচদিন ধরে অচল রয়েছে দেশটির ইন্টারনেট ব্যবস্থা। এই নজিরবিহীন তথ্য অবরোধ ভাঙতে এবার এক ব্যতিক্রমী ও চাঞ্চল্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তেহরানের সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এর কর্ণধার ইলন মাস্কের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের এই ঘোষণা কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
স্টারলিংকের মাধ্যমে ডিজিটাল মুক্তির আশা
রবিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তাঁর এই অপ্রত্যাশিত পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেন যে, মাস্কের স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিংক’ ব্যবহার করেই ইরান সরকারের কঠোর ফায়ারওয়াল ভেদ করা সম্ভব হতে পারে। ইলন মাস্কের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প জানান, সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করেই তিনি মাস্কের সঙ্গে এই বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসবেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্পেসএক্স বা ইলন মাস্কের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি
অর্থনৈতিক সংকট এবং চরম মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ইরান জুড়ে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ ধারণ করেছে। ২০২২ সালের পর দেশটিতে ঘটা এটিই সবচেয়ে বড় এবং তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কায় গত বৃহস্পতিবার থেকেই ইরান সরকার দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলন দমনের এই কৌশলের বিরুদ্ধে এবার আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং সহিংসতা প্রসঙ্গে তেহরান সরকার শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ইরান কর্তৃপক্ষের দাবি, মার্কিন প্রশাসনের প্রত্যক্ষ উস্কানি ও হস্তক্ষেপের ফলেই এই আন্দোলন সহিংস ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ভিনদেশি কোনো শক্তি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলালে তার ফলাফল শুভ হবে না। বিশেষ করে সামরিক বা প্রযুক্তিগত কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তেহরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
প্রযুক্তি বনাম সার্বভৌমত্ব
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন একজন শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সহায়তায় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের তথ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত, তখন বিষয়টি গভীর কূটনৈতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সফল হলে তা কেবল ইরানের রাজনীতিতেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট স্বাধীনতার প্রশ্নে এক নতুন নজির স্থাপন করবে। ইলন মাস্ক শেষ পর্যন্ত এই আহ্বানে সাড়া দেবেন কি না, এবং ইরানের আকাশসীমায় স্টারলিংক সক্রিয় করা সম্ভব হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।